রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে আজ বুধবার দুপুরে নদীতীরে মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কেদারপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের বিদ্যালয়টি রক্ষা করা না গেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে, পাশাপাশি হারাতে হবে ঘরবাড়িও। তার বিদ্যালয়টিই এখন সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পশ্চিম ভূতেরদিয়া ও উত্তর বাহেরচর বাজার-সংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষ। শুধু ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাজার, দোকানপাট এবং নদীতীরের অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতবাড়িও।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সন্ধ্যা নদীর প্রবল স্রোতে পশ্চিম ভূতেরদিয়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং নদীর পাড় ক্রমেই লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয় এবং কোনো কোনো বছর বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছরই এই ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে তার আক্ষেপ। তবে এবারের ভাঙন আগের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি তীব্র বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শতাধিক দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা স্থানীয় বাজারটি নিয়েও উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের কেনাকাটা ও ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র এই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়বেন বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবারই মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন। তার মতে, এবারের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নয়তো সামনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনে মানুষ যেমন বসতভিটা হারাচ্ছেন, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তারা। মানববন্ধনে আরও অংশ নেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন সংগঠক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই ‘পর্যায়ক্রমিক’ ব্যবস্থার অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে বিদ্যালয়, বাজার কিংবা বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে তখন আর কিছু করার থাকবে না। তাদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হোক, যাতে শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নয়—দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত হয়।
আহাছানুল মতিন নান্নু: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ০৬ নম্বর রণগাঁও ইউনিয়নের রণগাঁও প্রেসিডেন্ট পাড়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস খেলার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ খেলা অনুষ্ঠিত ...
লরাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। বুধবার (২৬ আগস্ট) মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছ ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে শিয়ালের আক্রমণে ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত হয়েছে। পরে তারা রাতেই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয ...
রাজশাহী অফিস : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও রাজশাহীতে সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত ওয়ালিদুর রহমান, মহানগর ...
সব মন্তব্য
No Comments