অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী গরুর হাটে এখন উপচে পড়া ভিড়। সকাল গড়াতেই হাটজুড়ে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর কেনাবেচার ব্যস্ততা। ফরিদপুরের পাশাপাশি রাজবাড়ী, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত গরু নিয়ে হাটে আসছেন খামারি ও গৃহস্থরা। বড় ট্রাক, পিকআপ, নসিমনসহ নানা ধরনের যানবাহনে করে পশু এনে হাটে তুলছেন বিক্রেতারা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই হাটের কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথম দিকে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাটে মানুষের ঢল নামে। একদিকে কোরবানির পশু দেখতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে পছন্দের গরু কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা—সব মিলিয়ে টেপাখোলা হাট যেন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
তবে দুপুরের দিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। হাটের ভেতরে ও আশপাশের সড়কে পানি জমে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তারপরও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলতে থাকে কেনাবেচা ও দরদাম।
হাটে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরু উঠলেও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।পাশাপাশি সীমিত বাজেটের ক্রেতাদের কাছে ছোট গরুরও কদর রয়েছে। হাটে ২৫-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের গরুও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে।
গরু বিক্রি করতে আসা গৃহস্থ আব্দুল কাদের বলেন, “সারা বছর যত্ন করে গরু পালন করি ঈদের হাটকে কেন্দ্র করেই। এবার খাবারের দাম বেশি হওয়ায় খরচও বেড়েছে। তাই ভালো দাম পাওয়ার আশায় গরু নিয়ে এসেছি।” আরেক বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, “টেপাখোলার হাটে প্রতি বছরই আসি। এখানে ক্রেতা বেশি থাকে, তাই বিক্রির সম্ভাবনাও ভালো। সকালটা ধীরগতির ছিল, তবে বিকেলের দিকে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছি।”
কোরবানির পশু কিনতে আসা এক মুসল্লি মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাঝারি গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও সাধ্যের মধ্যে ভালো গরু খুঁজছি। ঈদের কোরবানি ধর্মীয় দায়িত্ব, তাই সামর্থ্য অনুযায়ী কেনার চেষ্টা করছি।” আরেক ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, “বাজারে সব কিছুর দাম বেড়েছে, তার প্রভাব গরুর হাটেও পড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য একটু কম দামে গরু পাওয়া গেলে ভালো হতো।”
হাট ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। পুরো হাট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরাও হাটে তৎপর রয়েছেন।
হাট পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, “ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জাল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে ঘিরে ফরিদপুরের টেপাখোলা গরুর হাট এখন জমজমাট বেচাকেনা, প্রাণচাঞ্চল্য আর উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে।
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকীরচর স্থায়ী বেঁদে পল্লীতে নারী ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় উভয় পক্ষের ...
ঝালকাঠি (কাঁঠালিয়া) প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের কৈখালী বাজারে শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যবাহী গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গত ...
রাহাদ সুমন, বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের বানারীপাড়ায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কচুয়া-বালিপাড়া-উত্তরকুল (কেবিইউ) সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় ...
নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় এক বিএনপি নেতাকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আবু মিয়া নামে এক আসামিক ...
সব মন্তব্য
No Comments