শরিফুল ইসলাম: বাংলাদেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাত হলো চা শিল্প। শতবর্ষী এ শিল্প দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের চা শিল্প এখন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, খরা ও নতুন ধরনের কীটপতঙ্গের আক্রমণ— সব মিলিয়ে চা উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে রপ্তানি বাজার পর্যন্ত পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল হলো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে চা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। আবার অনেক সময় অতিবৃষ্টির কারণে চা গাছে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদন কমে যায়।
চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে বার্ষিক চা উৎপাদন হতো প্রায় ৯ কোটি কেজির বেশি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারায় স্থবিরতা এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
চা গাছ মূলত শীতল ও সুনিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া পছন্দ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগানগুলোতে গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় চা পাতার মানও নষ্ট হচ্ছে।
এছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নতুন ধরনের কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রচলিত কীটনাশক দিয়ে অনেক সময় এসব পোকা দমন করা যাচ্ছে না। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অথচ লাভ কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের চা শিল্পে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক শ্রমিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে তাদের আয়ের উৎসও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অনেক শ্রমিককে বিকল্প জীবিকার সন্ধান করতে হচ্ছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলবায়ুজনিত ক্ষতির কারণে তাদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের একটি বড় অংশ দেশীয় বাজারে ব্যবহৃত হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানির সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে জলবায়ু সহনশীল জাতের চা গাছ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ, জৈব কীটনাশক ব্যবহার ও শ্রমিক কল্যাণ কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। সরকার ইতোমধ্যেই অভিযোজনমূলক কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তবে তা আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শতবর্ষী চা শিল্প শুধু অর্থনীতির অংশ নয়— এটি দেশের ঐতিহ্যেরও প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি।
স্টাফ রিপোর্টার: আইন অনুযায়ী নির্দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণার হিড়িক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: চিকিৎসকের পরামর্শে ফলোআপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত ৯ মে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ১২ মে ক্যামব্রিজের রয় ...
স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রম ...
স্টাফ রিপোর্টার: হামের টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments