হামের টিকা বেসরকারি খাতে স্থানান্তর

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশ : 17 May 2026
ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্টাফ রিপোর্টার: হামের টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ মোট ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তদন্ত কমিটি গঠনের আরজি জানানো হয়।


রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। 


রিটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ ২৪ জনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 


ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু শিশু ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 


রিট আবেদনে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হামের মতো জরুরি টিকা ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় হাত থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পেছনে কোনো অশুভ বা অপরাধমূলক স্বার্থ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। 


হামের টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এই কর্মসূচি বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। 


রিট আবেদনটি এখন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত শুনানির জন্য দিন ধার্য করলে পরবর্তী নির্দেশনা আসবে। এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা সাবেক উপদেষ্টাদের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।


সম্পর্কিত খবর

;