ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
লুতুব আলি:
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ সকাল ১১টায় পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল এন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়েই রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। প্রথমত, ৫৫ বছরের ব্যবধানে ফের জেলা থেকে উঠে এলেন কোনো মুখ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, জ্যোতি বসুর পর শুভেন্দু অধিকারী হলেন দ্বিতীয় বিরোধী দলনেতা যিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসলেন।
শেষবার জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মেদিনীপুরের অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়, ১৯৭১ সালে। তারপর কলকাতা-কেন্দ্রিক নেতৃত্বের যুগ চলেছে টানা পাঁচ দশক। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত সকলেই কলকাতার। ৫৫ বছর পর সেই ধারা ভেঙে ফের মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে নবান্নের শীর্ষে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৯৩ আসনে লড়ে ২০৭টি আসন জিতে প্রথমবার বাংলায় সরকার গড়েছে। শুভেন্দু অধিকারী নিজে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই জিতেছেন। ভবানীপুরে তিনি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা বাংলায় বিরল। এর আগে একমাত্র জ্যোতি বসু ১৯৭৭ সালে বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী সেই তালিকায় দ্বিতীয় নাম। আরও একটি রেকর্ড তাঁর দখলে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে তিনিই প্রথম, যিনি কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারিয়ে নিজে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসলেন। ২০২১ সালেও তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন।
আজকের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন-সহ ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ নেন নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনিয়াসহ একাধিক মন্ত্রী। নতুন সরকারে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও থাকছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর।
৮ মে শুক্রবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে শুভেন্দুকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। অমিত শাহ জানান, বৈঠকে যে আটটি প্রস্তাব আসে, সবকটিতেই একটাই নাম ছিল। শপথের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দের বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ করার লক্ষ্যেই কাজ করবে তাঁর সরকার।
এই শপথের মধ্যে দিয়ে শুধু একটি সরকার বদল হলো না, বদল হলো বাংলার রাজনৈতিক ভূগোলও। কলকাতার বাইরে থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব এবং বিরোধী আসন থেকে সরাসরি শাসকের ভূমিকায় উত্তরণ, দুটি ধারাই ফিরিয়ে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর মেদিনীপুর, জ্যোতি বসুর পর বিরোধী দলনেতা, ইতিহাস সত্যিই ফিরে এল ব্রিগেডের মঞ্চে।
আবু জাফর সূর্য:বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—এ দেশে সাংবাদিকতা এখনও এক অনিরাপদ, অনিশ্চিত ও পরস্পরবিরোধী পেশা। বিশেষ করে এখন টিভির বার্তা বিভাগ ...
মানিক লাল ঘোষ:বাংলাদেশে বর্তমানের ভয়াবহ হাম পরিস্থিতি কোনো দৈব দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ‘মানবসৃষ্ট’ বিপর্যয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট স্পষ্টভাবে আঙুল তুলেছে বিগত অন্তর্বর্তীক ...
মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল:ঢাকা শহর যেন আবারও নিজের পুরোনো অসহায় চেহারায় ফিরে গেছে। কয়েক ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুক ...
এ এম ইমদাদুল ইসলাম:বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ মানুষ গ্রামে এবং ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস ...
সব মন্তব্য
No Comments