গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড ব্যবস্থাপনায় নতুন গাইডলাইন উদ্বোধন করল বিএমইউ

প্রকাশ : 21 May 2026
গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড ব্যবস্থাপনায় নতুন গাইডলাইন উদ্বোধন করল বিএমইউ

স্টাফ রিপোর্টার: গর্ভাবস্থা ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ কে সামনে রেখে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হলো। এবারের প্রতিপাদ্য ‘থাইরয়েড স্বাস্থ্য রক্ষায় সঠিক পুষ্টি’।


বুধবার ২০ মে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে থাইরয়েড টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে গাইডলাইনটির উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, নতুন গাইডলাইন ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন প্র্যাকটিসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জন্মের পর নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ে জোর দিতে হবে।


সেমিনারে জানানো হয়, গাইডলাইনটি গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের জটিলতা নিরসন, অকাল প্রসব, গর্ভপাত, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এটি হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারডেমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক পাঠান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইএস এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও থাইরয়েড টাস্কফোর্সের কো-অর্ডিনেটর ডা. শাহজাদা সেলিম। সঞ্চালনা করেন ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ।


নিনমাসের পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, জীবনের চারটি সময়ে- জন্মের পর, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের পূর্বে এবং ৫০ বছর বয়সের পর অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। তিনি জানান, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে কাঁটা-ছেঁড়া ছাড়াই টিউমার অপসারণ সম্ভব। এতে রোগীকে অজ্ঞান বা হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না এবং খরচও কম।


সেমিনারে বলা হয়, থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাক, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজমে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হাইপারথাইরয়েডিজমে ধড়ফড়, ওজন কমা, হাত কাঁপা দেখা দেয়। থাইরয়েড সুস্থ রাখতে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিন ডি জরুরি। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াবিনে গয়ট্রোজেন থাকায় পরিমিত ও রান্না করে খেতে হবে। ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।


আয়োজকরা চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাইরয়েড রোগ নিয়ে আরও গবেষণা, সঠিক চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত খবর

;