‘সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, মন্তব্য নয়’: পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 21 May 2026
‘সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, মন্তব্য নয়’: পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) কার্যকর এবং সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সিএএ বা আসামের এনআরসি ভারতের নাগরিকদের জন্য তাদের নিজস্ব আইন-কানুন।


বৃহস্পতিবার ২১ মে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড ও সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। সিএএ কার্যকর করা বা না করা, কিংবা আসামের এনআরসি-এগুলো ভারতের পার্লামেন্ট ও আদালতের বিষয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।’


তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, সেটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী কাজ করা।’


সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত ফ্ল্যাগ মিটিং ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। কোনো নাগরিককে জোর করে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটলে তা প্রটোকল অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সীমান্তে শান্তি বজায় থাকুক। কোনো ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হোক, সেটা আমরা চাই না। দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।’


সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক রামিসা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং কক্সবাজার-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি পুলিশের কাঠামোগত সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি ও থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। অপরাধী যে বাহিনীরই হোক, তাকে প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনা হবে। 

সম্পর্কিত খবর

;