বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করা বিচার বিভাগের ওপর চপেটাঘাত: জামায়াত

প্রকাশ : 21 May 2026
বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করা বিচার বিভাগের ওপর চপেটাঘাত: জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার: বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘বিচার বিভাগের ওপর চপেটাঘাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে এবং জনগণের আস্থার জায়গা ধ্বংস করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার ২১ মে দুপুর পৌনে ২টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


এডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে যে ট্রাস্ট ও কনফিডেন্স তৈরি হয়েছিল, তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ভাষায়, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য একটি কালো দিন।’


তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের মাজদার হোসেন মামলার ১২ দফা নির্দেশনার আলোকে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়। ২০২৫ সালে হাইকোর্টের রায়ের পর ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু ১০ এপ্রিল ২০২৬ সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল ঘোষণা করে। সর্বশেষ ১৯ মে বিচার বিভাগের ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।


শিশির মনির বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার বিষয় আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। আইন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে রায় দিলে তাদের বদলি বা পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে রায় যার পক্ষেই যাক, আপত্তি নেই। কিন্তু বিচারকদের বদলি করে দেওয়া, পদোন্নতি না দেওয়া, সুন্দরবন-বান্দরবানে বদলি করা – এটি স্বাধীন বিচার বিভাগের চরিত্র হতে পারে না।’


জামায়াত মনে করে, বদলি, ছুটি ও পদোন্নতি সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকা উচিৎ। এটি লঙ্ঘন করা হলে অধঃস্তন আদালতের বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। এছাড়া প্রধান বিচারপতিকে ৫০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জামায়াতের দাবি, জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় পুনর্বহাল করা জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

;