নেত্রকোণায় এগ্রোইকোলজি চর্চায় এগিয়ে আসছেন তরুণেরা

প্রকাশ : 20 Oct 2026
নেত্রকোণায় এগ্রোইকোলজি চর্চায় এগিয়ে আসছেন তরুণেরা

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেত্রকোণার মদন উপজেলায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা (এগ্রোইকোলজি), জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ববিষয়ক যুব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার উচিতপুর গ্রামের বটতলায় এ কর্মশালার আয়োজন করে উচিতপুর যুব সংগঠন। এতে সহযোগিতা করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক।

কর্মশালায় মদন, উচিতপুর, গোবিন্দশ্রী ও কুলিয়াটি গ্রামের ২৫ জন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। এতে বর্তমান কৃষি সংকট, টেকসই কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, হাওর অঞ্চলের অভিযোজন কৌশল, জৈব কৃষি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, অচাষকৃত উদ্ভিদ ও জলজ খাবার, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনা পরিচালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান ও সোয়েল রানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব সংগঠক কামরুজ্জামান বাবু।

কর্মশালায় মো. অহিদুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তরুণেরা বেড়ে উঠছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গ্রামের অভিজ্ঞ মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও স্থানীয় অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে তরুণদের জানা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষিকাজে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীরা টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তাঁরা ফসলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, জৈব সার তৈরি ও প্রয়োগ এবং বসতবাড়ির অনাবাদি জায়গা চাষাবাদের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় তাঁরা এগ্রোইকোলজিবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড তৈরি করে প্রদর্শন করেন।

যুব সংগঠক কামরুজ্জামান বাবু বলেন, প্রতিটি গ্রামে একটি করে এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার ও বীজব্যাংক গড়ে তোলা গেলে কৃষির ওপর কৃষকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা বাড়বে। পাশাপাশি কৃষক, উৎপাদক ও ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী তরুণদের মতে, এগ্রোইকোলজি ও খাদ্য সার্বভৌমত্বের চর্চা গ্রামীণ মানুষের খাদ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষকের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বীজ, জ্ঞান ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এগ্রোইকোলজির অন্যতম লক্ষ্য। এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক উপকরণের ক্ষতিকর ব্যবহার কমিয়ে মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। হাওর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


সম্পর্কিত খবর

;