দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

প্রকাশ : 19 Aug 2026
দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।


তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডা. দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। তার জানাজা ও দাফন কোথায় এবং কখন হবে, তা বুধবার দুপুরের পর পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।


ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সর্বশেষ দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


তার অসুস্থতার বিষয়টি চলতি বছরও প্রকাশ্যে আসে। গত ২৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হুইলচেয়ারে করে এসে স্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। ওই সময় দীপু মনিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল এবং অনুমতি নিয়ে অসুস্থ স্বামী তার সঙ্গে দেখা করেন। ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়।


প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ওই সময় তৌফিক নেওয়াজকে অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে করে ট্রাইব্যুনালে আসার কথা উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে তিনি হুইলচেয়ারের সাহায্য নিচ্ছিলেন বলে ওই সময়ের প্রতিবেদনে জানা যায়।


তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশের আইন অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। তার আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে উচ্চ আদালতের মামলা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধ ও সালিসি-সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল বলে বিভিন্ন সময়ের প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে।


আইন পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক মামলায়ও তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০১০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টি সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায় আলোচিত হয়েছিল। তবে তার পেশাগত জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব ও মামলার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, ফলে নির্দিষ্ট দায়িত্বের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি ও সময়কাল বিবেচনা করা প্রয়োজন।


তৌফিক নেওয়াজের সঙ্গে ডা. দীপু মনির দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।


স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সেই ঘটনাটিও তৌফিক নেওয়াজের জীবনের শেষ দিকের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে থাকল। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে স্ত্রীকে দেখে এসেছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে হুইলচেয়ারে দেখা যায়।


এর আগে ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন ডা. দীপু মনি ও তৌফিক নেওয়াজের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা পরস্পর যোগসাজশে সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে এগুলো ছিল মামলার অভিযোগ; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তকে এ প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে না।


তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, স্বজন ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করছেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দুপুরের পর তার জানাজা ও দাফনের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সম্পর্কিত খবর

;