সরকারের ভাল কাজে সহযোগীতা মন্দ কাজে বিরোধীতা করে যাবো: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রকাশ : 30 Apr 2026
সরকারের ভাল কাজে সহযোগীতা মন্দ কাজে বিরোধীতা করে যাবো: বিরোধীদলীয় নেতা

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে সংগঠিত প্রত্যেক অপরাধের বিচার করতে হবে।” তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করা হবে, তবে ভুল দেখলে বিরোধিতা করা হবে এবং কোনো চাপকে পরোয়া করা হবে না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কৃষকদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় ফসলের দাম না বাড়ায় কৃষকরা ‘হাঁসফাঁস অবস্থায়’ রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাঠ পর্যায়ে কম দামে বিক্রি হওয়া পণ্য রাজধানীতে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকাও কৃষকদের ক্ষতির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিস্তা নদী এলাকার দুর্ভোগ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুই সমস্যাই বাড়ছে। প্রতিবছর নদীভাঙনে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত—এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।” এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মেধাভিত্তিক জনবল ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন তিনি। স্বাস্থ্যখাতে শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তির কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। “চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না—এরা দলের নাম ভাঙানো দুর্বৃত্ত,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-এর সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি একে ‘সিটমহল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে তীব্র যানজট, সরু রাস্তা, জলাবদ্ধতা, খাল দখল, ভাঙাচোরা সড়ক এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সম্পর্কিত খবর

;