উপকূলবাসীকে ২৯ এপ্রিলের চাইতেও ভয়াল স্মৃতির মুখোমুখি হতে হবে

প্রকাশ : 29 Apr 2025
উপকূলবাসীকে ২৯ এপ্রিলের চাইতেও ভয়াল স্মৃতির মুখোমুখি হতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: প্যারাবন নিধন করে সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস করলে দেশের উপকূলবাসীকে ২৯ এপ্রিলের চাইতেও ভয়াল স্মৃতির  মুখোমুখি  হতে হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘কোস্টাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ’ ও উপকূলীয় উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, দ্বীপ শিখা’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দৈনিক নিরপেক্ষ সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের তাপমাত্রা শতবছর এর রেকর্ড ব্রেক করে চলেছে। অসহনীয় গরমে আমজনতার জীবন ওষ্ঠাগত । সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বারবার বলছেন গাছ লাগাতে, প্যারাবন সৃজন করতে। সরকারী আয়োজনে বৃক্ষমেলা করা হয় প্রতিবছর। কোটি কোটি টাকার গাছ লাগানো হয় জনগনের  টাকায়। অথচ সরকার সহ সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্যারাবন নিধন করা হচ্ছে অবাধে। তিনি বলেন, ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে হরিলুট করে নিয়ে গেছে। দ্বীপাঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করেনি এখনো তাদের দোসররা বহাল তবিয়তে আছে। বর্তমান সরকার মহেশ খালী, সন্দীপ, ভোলার যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। কুতুবদিয়া বাসীর জন্যও  যোগাযোগ ক্ষেত্রে  শিঘ্রই সু-সংবাদ আসছে।

লেখক গবেষক সাহাদাত উল্লাহ খান বলেন, বনবিভাগ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় মহেশখালীতে হাজার হাজার একর প্যারাবন দিবালেকে কেটেছে কে?বিগত সরকার, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও বনকর্মকর্তারা কি  কোনভাবেই  এর দায়  এড়াতে পারেন না?

মহেশখালীতে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার প্যারাবন নিধন করে চিংড়ী ঘের ও লবন চাষের মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। ছাত্র জনতার আন্দোজনে গঠিত সরকারের কাছে জার দাবী বিশেষ ট্রান্সফোর্স গঠন করে পরিবেশ সুরক্ষায় দ্বীপাঞ্চলে প্যারাবন নিধনকারীদের তালিকা প্রকাশ করা। জাতীয় ও গণ-দুশমন, মানবতাবিরোধী অপরাধী কুলাঙ্গারদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসি দেওয়া। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হোক। এ সময় গোলটেবিলবৈঠকে বক্তারা দাবী করেন-উপকূলীয় মন্ত্রণালয় ও উপকুল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। উপকূল সুরক্ষায় স্থায়ী সুপার ডাইক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। প্যারাবন কেটে চিংড়িঘের ও লবন মাট তৈরী বন্ধ করে ও সবুজ বেষ্টনী সৃজন করতে হবে। দ্বীপাঞ্চলের সাথে মূল ভূখন্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার  নির্মাণ করতে হবে। ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণা করতে হবে।

সিজেএফবির উপদেষ্ঠা সিআইপি আব্দুশ শুক্কুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক ও দোওয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর সাবেক সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী  কুতুবদিয়ার সাবেক এমপি ডক্টর  এইচ এম হামিদুর রহমান  আজাদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, বরেণ্য  শিক্ষাবিদ কর্ণেল অবঃ আশরাফ আল দীন ও কবি প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) ডক্টর  মো. জিয়াউল ইসলাম মুন্না। গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোস্টাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আতা উল্লাহ, খান উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন  ডুয়েট  এর উপাচার্য প্রফেসর জয়নাল আবেদীন, মূল প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক সাদাত উল্লাহ খান, প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সিজেএফবি’র উপদেষ্টা লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল খান প্রমুখ।


সম্পর্কিত খবর

;