দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

প্রকাশ : 02 May 2026
দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি গ্রেপ্তার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার ৩নম্বর এজাহার নামীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি (৩২) ওরফে কিলার রাজিব কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা রোডের নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে। কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ সিপিসি-১ ও র‌্যাব-৫ সদর কোম্পানীর সদস্য যৌথ আভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে বলে র‌্যাব সূত্র নিশ্চিত করেছে। এনিয়ে পীর হত্যাকান্ডের ঘটনায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার হলো।

র‌্যাব সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর এর দেয়া ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন অবমাননাকর একটি আপত্তিকর মন্তব্যযুক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই সূত্র ধরে ১১ এপ্রিল দুপুর ২.৪৫ টার সময় এজাহারনামীয় ৪ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জন আসামিরা বেআইনীজনতায় সংঘবদ্ধ হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে অবস্থিত আ¯Íানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর সহ উপস্থিত দুইজন অনুসারীকে মারধর করে এবং আস্তানা ভাংচুর করে আগুন জালিয়ে দেয়। ভিকটিমদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন যার মামলা নং-৩৬। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের প্রেক্ষিতে ৩০ এপ্রিল রাত ১১টার সময় র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ও র‌্যাব-৫ সদর কোম্পানীর একটি যৌথ আভিযানিক দল পীর হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৩নম্বর আসামি রাজীব মিস্ত্রীকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন থানা রোড নাসিম হেয়ার ড্রেসার এর সামনে হতে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে সে চুল কাটানোর জন্য অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হলে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার তাকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া পীর হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৩নম্বর আসামি রাজিব মিস্ত্রিকে রিমান্ড চেয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এরআগে ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাঁকী আসামিদের গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে তাকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়।

হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন ইসলামী ছাত্র শিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তিনি মামলার ১নম্বর হুকুমের প্রধান আসামি। অপর ৩আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব (সাফি) (৪৫)।


সম্পর্কিত খবর

;