মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস। মশলার বাজারে সুগন্ধি বড় এলাচ কিনতে গিয়ে আপনি কি অজান্তেই বাড়িতে বিষ নিয়ে ফিরছেন? সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বড় এলাচের আকাশচুম্বী দামের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বাজারে ছেড়েছে 'অ্যান্টোল' বা সাদা জংলি ফল। দেখতে হুবহু বড় এলাচের মতো হলেও এগুলো আসলে গুণহীন বুনো ফল, যা টেক্সটাইল ডাই বা কাপড়ের বিষাক্ত রঙে চুবিয়ে কুচকুচে কালো করা হয়। আপনার তরকারির স্বাদ বাড়াতে গিয়ে এই বিষাক্ত মশলা নীরবে আপনার লিভার ও কিডনিকে বিকল করে দিচ্ছে না তো?"
আমি বলছি 'অ্যান্টোল' বা জংলি এলাচের কথা। এটি মূলত সাধারণ বড় এলাচের (Amomum subulatum) একটি বুনো বা নিম্নমানের প্রজাতি। আমাদের দেশে এবং বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এটি সাদাটে বা ধূসর অবস্থায় পাওয়া যায়, যা অসাধু ব্যবসায়ীরা রং করে বড় এলাচ হিসেবে চালায়।
যেহেতু এই অ্যান্টোল চায়ের রং বা কৃত্রিম রং মিশিয়ে বড় এলাচ হিসেবে বিক্রি করা হয়, তাই এর অপকারিতা অনেক বেশি ভয়ংকর হতে পারে। সাদা ফলকে কালো করতে যে রং বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, তা রান্নার সময় আগুনের তাপে খাবারের সাথে মিশে যায়। এটি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অনেক সময় উজ্জ্বল কালো করতে টেক্সটাইল ডাই বা ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং মেশানো হয়, যা শরীরে কার্সিনোজেন বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এই জংলি ফলগুলো ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করা হয় না বলে এতে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক থাকতে পারে, যা থেকে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং হতে পারে। কৃত্রিম রঙের কারণে অনেকের ত্বকে চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে।
বাজার থেকে যখন বড় এলাচ কিনতে হয়, তখন ৩টি বিষয় খেয়াল করলে এই প্রতারণা থেকে বাঁচা যায়। যথা-(১) রং পরীক্ষা: এলাচটি এক গ্লাস গরম পানিতে ফেলতে হবে। যদি পানি দ্রুত গাঢ় খয়েরি বা কালো হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি রং করা জংলি ফল। আসল বড় এলাচের রং পানিতে সহজে ছড়ায় না। (২) তীব্র গন্ধের অভাব: আসল বড় এলাচ হাতে নিয়ে ঘষলে চমৎকার ধোঁয়াটে (Smoky) সুগন্ধ বের হয়। কিন্তু অ্যান্টোল বা জংলি ফলে কোনো সুগন্ধ থাকে না, বরং একধরণের ভ্যাপসা গন্ধ থাকে। (৩) সাদাটে ভাব: এলাচটির খোসা একটু নখ দিয়ে আঁচড়ালে যদি ভেতরে সাদাটে বা ফ্যাকাশে ভাব বেরিয়ে আসে, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই রং করা নকল এলাচ যা বিষধর অ্যান্টোল। আসল এলাচ খোঁসা-বিঁচি সব কুদরতি কালো।
আমাদের বাংলাদেশের 'নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩' এবং 'ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯' অনুযায়ী এই ধরণের জালিয়াতি দণ্ডনীয় অপরাধ। যেখানে বলা হয়েছে, খাদ্যে নিষিদ্ধ রং বা রাসায়নিক মেশালে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে অনূর্ধ্ব ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। বড় এলাচ বলে জংলি ফল বিক্রি করা একটি পরিষ্কার প্রতারণা। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এর জন্য জেল ও জরিমানার পাশাপাশি দোকান বা কারখানা সিলগালা করার ক্ষমতা রয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (DNCRP)। মশলার মানের ক্ষেত্রে বিএসটিআই-এর নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। এই জংলি ফলগুলো কোনো মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বাজারে ছাড়া হয়, যা অবৈধ।
এসব ভেজাল ও ক্ষতিকর দ্রব্য থেকে বাঁচাতে সরকারি পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে একান্ত জরুরী। সেক্ষেত্রে বড় মশলার বাজারগুলোতে (যেমন: ঢাকার মৌলভীবাজার বা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ) নিয়মিত অভিযান চালানো। যেহেতু অনেক সময় এই জংলি ফল প্রতিবেশী দেশ থেকে অবৈধভাবে আনা হয়, তাই সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা।হাট-বাজারে পোস্টার বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে আসল ও নকল এলাচ চেনার উপায় সাধারণ মানুষকে জানানো।
আমাদের দেশে মানুষ সাধারণত খোলা বাজার থেকে ওজনে মশলা কেনেন। এখানে প্রতারণার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তাই কেনার সময় ওপরের পরীক্ষাসমূহ বিশেষ করে 'ঘর্ষণ পরীক্ষা' করে নেওয়া জরুরি। যদি এই ধরনের প্রতারণার শিকার কেউ হয়ে থাকে বা প্রতারণা করতে দেখেন তাহলে তিনি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারেন। যেমন- (১) মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নিকটস্থ/সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যেমন-উপজেলা সহকারী কমিশনার(অ্যাসিল্যান্ড), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও), জেলা প্রশাসক(ডিসি)-এর নিকট অভিযোগ দেওয়া কিংবা তথ্য প্রদানকারী হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করা।
(২) সরাসরি অভিযোগের জন্য ১৬১২১ নম্বরে কল করা।
(৩) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ইমেইলে (nccc@dncrp.gov.bd) ছবিসহ প্রমাণ পাঠিয়ে অভিযোগ দেওয়া।(৪) যদি কোনো বড় চালান আটক করা হয়, তবে তার বিশুদ্ধতা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে বিএসটিআই (BSTI) বা সায়েন্স ল্যাব (BCSIR)-এর ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
খাদ্যে ভেজাল মেশানো শুধু আইনি অপরাধ নয়, এটি একটি নীরব গণহত্যা। বড় এলাচের নামে এই জংলি ফলের বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি এবং পাইকারি বাজারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। তবে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। রান্নায় ব্যবহারের আগে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে 'গরম পানি পরীক্ষা' করলেই এই মরণফাঁদ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখবেন, "সচেতনতাই ভেজালমুক্ত খাদ্যের প্রধান হাতিয়ার।"
স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে সন্দেহজনক হাম হিসেবে এবং ১ জনের ম ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী রবিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১২৮২। এসময় ১৮০ জন নিশ্চিত হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
< ...
ডেস্ক রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৮৭। এসময় ৬০ জন নিশ্চিত হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ...
সব মন্তব্য
No Comments