স্টাফ রিপোর্টার; অন্তর্বর্তী সরকারের আনা জাতীয় ‘মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করে আনীত বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ওই বিলের বিরোধীতা করে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগের মানবাধিকার কমিশন ছিলো মূলতঃ বিরোধী দল কমিশন হিসেবে কাজ করেছে। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জিয়া পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শিকার। সরকার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি জানান এনসিপি সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে সেই আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করে।
বিলটি উত্থাপনের পর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে রিস্টোর (পুনঃপ্রচলন) করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, এই কমিশনকে বিরোধী দল ও মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে এই কমিশন। এমনকি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি, মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতা-কর্মীদের গুলি করা বৈধ। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটিকে ল্যাপস (বিলুপ্ত) করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হবে এই সংসদের জন্য একটি ব্যাকওয়ার্ড মুভ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি টেক্সটবুক এক্সাম্পল হয়ে থাকবে।
কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, ছয় সদস্যের বাছাই কমিটিতে অধিকাংশই সরকারপক্ষের হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, যেখানে সরকার বা বাহিনী জড়িত থাকতে পারে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।
বিরোধীতার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি। বিলের প্রথম লাইনেই দেওয়া আছে, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনে এবং মানবাধিকার কমিশনের জায়গাটি যাতে ফাঁকা না থাকে, সেই কারণেই ২০০৯ সালের আইনটি রেস্টোর করা হয়েছে। অধ্যাদেশ ‘রহিত’ করা হলে এবং ২০০৯ সালের আইনটি রিস্টোর না হলে বিশ্ববাসী জানবে বাংলাদেশে মানবিধকার কমিশন নেই।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারতো। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আজ এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৭৯০ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির ট্রাফিক সূত্রে জান ...
স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়েছেন ...
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক আজ সকালে শুরু হয়ে সংক্ষিপ্ত সময় চলার পর আবারও বিরতি দেওয়া হয়েছে। সংসদের কার্যক্রম অনুযায়ী, সকাল বৈঠক শেষে অধিবেশনটি পুনরায় বেলা সাড় ...
সব মন্তব্য
No Comments