সস্তা চিনিযুক্ত পানীয়-অ্যালকোহলে বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধি

প্রকাশ : 13 Jan 2026
সস্তা চিনিযুক্ত পানীয়-অ্যালকোহলে বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বেশিরভাগ দেশে ধারাবাহিকভাবে কম করহার থাকায় চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ক্রমেই সস্তা হয়ে উঠছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও বিভিন্ন আঘাতজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশু ও তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আজ প্রকাশিত দুটি নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে সরকারগুলোর প্রতি চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের ওপর কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল করব্যবস্থার কারণে ক্ষতিকর এসব পণ্য কম দামে বাজারে থাকছে, অথচ প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগ ও আঘাতজনিত কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

WHO-এর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেন, “স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কর আমাদের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারগুলোর একটি। তামাক, চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহলের মতো পণ্যের ওপর কর বাড়ালে ক্ষতিকর ব্যবহার কমানো সম্ভব এবং একই সঙ্গে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য তহবিল জোগাড় করা যায়।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মুনাফা হয়। তবে স্বাস্থ্যভিত্তিক করের মাধ্যমে সরকারগুলো এই আয়ের খুব সামান্য অংশই সংগ্রহ করতে পারে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বহন করতে হয়।

WHO জানায়, অন্তত ১১৬টি দেশ চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর কর আরোপ করেছে, যার বেশিরভাগই সোডা পানীয়। তবে ১০০ শতাংশ ফলের রস, মিষ্টিযুক্ত দুধ পানীয় এবং প্রস্তুত কফি ও চায়ের মতো উচ্চ চিনিযুক্ত অনেক পণ্য এখনও করের আওতার বাইরে। যদিও ৯৭ শতাংশ দেশ এনার্জি ড্রিংকের ওপর কর আরোপ করে, ২০২৩ সালের পর থেকে এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই।

অন্যদিকে, পৃথক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ১৬৭টি দেশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের ওপর কর আরোপ করে এবং ১২টি দেশে সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ। তবুও ২০২২ সালের পর থেকে বেশিরভাগ দেশে অ্যালকোহল আরও সাশ্রয়ী হয়েছে বা দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি, কারণ করহার মুদ্রাস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি স্পষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের অন্তত ২৫টি দেশে ওয়াইন করমুক্ত রয়েছে।

WHO-এর স্বাস্থ্য নির্ধারক, প্রচার ও প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক ড. এতিয়েন ক্রুগ বলেন, “অ্যালকোহল যত সাশ্রয়ী হয়, ততই সহিংসতা, আঘাত ও রোগ বাড়ে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হলেও এর স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।”

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বিয়ারের ওপর গড় আবগারি করহার মাত্র ১৪ শতাংশ এবং স্পিরিটের ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। চিনিযুক্ত পানীয়ের কর সাধারণত খুবই কম, যা একটি সাধারণ সোডার দামের গড়ে মাত্র ২ শতাংশ। অনেক দেশ মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে কর সমন্বয় না করায় ক্ষতিকর পণ্যগুলো সময়ের সঙ্গে আরও সস্তা হয়ে যাচ্ছে।

২০২২ সালের গ্যালাপ জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর উচ্চ কর আরোপের পক্ষে। এ প্রেক্ষাপটে WHO তার নতুন ‘৩ বাই ৩৫’ উদ্যোগের আওতায় দেশগুলোকে করব্যবস্থা পুনর্গঠন ও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে তামাক, অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রকৃত দাম বাড়িয়ে সেগুলোকে কম সাশ্রয়ী করা, যাতে জনস্বাস্থ্য আরও সুরক্ষিত থাকে।

সম্পর্কিত খবর

;