বানারীপাড়ায় নির্মম নির্যাতনে জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

প্রকাশ : 02 May 2026
বানারীপাড়ায় নির্মম নির্যাতনে জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি:  বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে হাবিবুর রহমান মোল্লা (৫০) নামের এক জেলেকে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  শনিবার (২ মে) সকালে তাদের বরিশালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (১ মে) নিহত হাবিবুর রহমান মোল্লার বাবা আঃ মন্নাত মোল্লা বাদী হয়ে তার ছেলেকে পরকল্পিতভাবে মারধর ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ এনে পুত্রবধু সেলিনা বেগম ও নাতি সাগরকে আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে হাবিবুর রহমান মোল্লাকে তার স্ত্রী ও ছেলে পরিকল্পিতভাবে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার, (৩০ এপ্রিল) রাতের আঁধারে তাকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করে হত্যা করা হলেও শুক্রবার (১ মে) সকালে তার মৃত্যুর খবর জানাজানি হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নলশ্রী গ্রামে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

গ্রামবাসীরা জানান, নিহতের নাক, মুখমন্ডল ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান।  পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং নিহত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও ছেলেকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য আটক এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।  শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনায়  বরিশাল জেলা সহকারি পুলিশ সুপার ( সার্কেল) সৌমেন সরকার বানারীপাড়া থানায় আসেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  এ মামলার আসামী নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিঙ্গাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।  এদিকে, এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর

;