হঠাৎ দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী, পৌঁছে দিলেন ঢাকার বার্তা

প্রকাশ : 06 Oct 2026
হঠাৎ দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী, পৌঁছে দিলেন ঢাকার বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এবং ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, তিনি সোমবার রাতে ঢাকা থেকে দিল্লি পৌঁছান এবং মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় তার সাম্প্রতিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বার্তা পৌঁছে দেন। 


ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এক্স-এ জানানো হয়, হাইকমিশনার মোদীর কাছ থেকে বাংলাদেশ-ভারত বহুমাত্রিক ও স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গঠনমূলক এবং জনকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য ইস্যুতে ঢাকার বর্তমান মনোভাব সম্পর্কে অবহিত করতেই তার এই সফর। 


এর আগে ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদী রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এবং সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী পদ্ধতিতে কাজ করার ভারতের অভিপ্রায়ের কথা জানান। 


দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৭ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ভারতের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ বছর বয়সী সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী হলেন স্বাধীনতা-উত্তর ৫৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাকে পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তার পরিচিতি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্কের কারণে এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ। 


এই কূটনৈতিক তৎপরতার পটভূমিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনার সম্প্রতি ঢাকায় এক আলোচনায় বলেন, ভারত কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না, কারণ বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, যা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা বাকি রয়েছে। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অনেকদূর এগোলেও প্রত্যর্পণ ইস্যু এবং সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল প্রেস ইভেন্টকে কেন্দ্র করে সফরের পরিবেশ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। 


এই সফর নিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে দিল্লির সূত্রগুলো বলছে আলোচনায় জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;