# হঠাৎ সরবরাহ সংকট, নজরদারিও নেই
# বেশি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
# এলপিজি গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের চুলায় ঝুঁকছেন গৃহিনীরা
সফিকুল ইসলাম: এলপিজি গ্যাস সিন্ডিকেট চক্রের কবলে পড়েছে গোটা দেশের সাধারণ মানুষ। অসাধু ব্যবসায়ী ও পরিবেশকদের যোগসাজশে ‘এলপিজি’ সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। তবে সোমবার বেশি দাম দিয়েও মিলছে না ‘এলপিজি’। বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ রয়েছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর অভিযানের ভয়ে। যদিও কোথাও কোথাও ˜িগুন দামের বিনিময়ে গোপনে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বাসা বাড়ি,রেস্তোরার এলপিজি ব্যবহারকারীরা। এককথায় বলতে গেলে হঠাৎ সরবরাহ সংকট তৈরি করে দেশের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছে ‘এলপিজি’ সিন্ডিকেট। ফলে বাড়তি খচর বাচাঁতে অনেক গৃহিনীরা বিদ্যুতের কিংবা মাটির চুলায় ঝুঁকছেন।
সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে অসাধু ব্যবসায়ী ও পরিবেশকরা। রোববার সরকারি ভাবে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ধরা হয় ১ হাজার ২৫৩ টাকা। সেখানে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামেও মিলছে না গ্যাস। এতে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নজরদারি বা অভিযান চোখে পড়ছে না। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে বলে অভিযোগ তাদের। রাজধানীর ডেমরার বাসিন্দা দেলওয়ার হোসেন গ্যাস কিনতে এসে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। একইকথা জানিয়েছেন জুরাইনের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম পিলু ও সোহাগ আহমেদসহ আরও কয়েকজন। তারা বলছেন, রান্নার গ্যাস ছাড়া চলার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান আজহার আলী নামের আরেক ক্রেতা। তিনি বলেন, সাতটি দোকান ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাইনি। এভাবে গ্যাস সংকট হলে মানুষ চলবে কীভাবে? গ্যাস ছাড়া রান্নাবান্না অসম্ভব। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোতেও গ্যাস না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ হয়। তারা জানান, আমরা সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকেই গ্যাস কিনি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, গ্যাস আমদানি করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত আমাদের কাছেও গ্যাস নেই। ভোক্তাদের জিম্মি করে চড়া মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফোনে ১২ কেজি এলপিজির মূল্য ২২০০ টাকা বললেও সাংবাদিক বা টিভি ক্যামেরা দেখে এর মূল্য হয়ে যায় ১৫০০ টাকা। কেন? এর উত্তর নেই। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে এলপিজির সংকট। মালিবাগ থেকে কেরানীগঞ্জ, সেখান থেকে মানিকনগর ঘুরেও গ্যাস পাননি অনেকেই। জ্বলছে না চুলা, পড়ছেন অকূল পাথারে। বিক্রেতারা জানান, বড় কোম্পানিগুলো সাপ্লাই দিতে পারছে না। খরচ বেড়ে গেছে। একটা গাড়ি একদিন গেলে চার পাঁচদিন পর পর লোড হয়। ঢাকার ধামরাইয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে হঠাৎ তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন বাসাবাড়ি ও ছোট ব্যবসার মালিকরা। বিশেষ করে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকার সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারপরও অনেক দোকান ও ডিলার পয়েন্ট ঘুরেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি লাইনের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকে যথেষ্ট সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে। পৌরসভার লাকুরিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব জানান, সিলিন্ডার গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। তিন দিন ধরে বিভিন্ন দোকানে খুঁজেও তিনি গ্যাস পাননি। এতে ভাড়াটিয়ারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। হার্ডিঞ্জ স্কুলের সামনে চায়ের দোকান চালান আজহার আলী। তিনি বলেন, শুনলাম ১ হাজার ৮০০ টাকা হলে পাওয়া যাবে। কিন্তু ২ হাজার টাকা নিয়েও ঘুরে আসলাম, কোথাও সিলিন্ডার পাইনি। ধামরাই বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী জুলমত আলী বলেন, শীতে এমনিতেই ক্রেতা কম থাকে। তার ওপর গ্যাস সংকটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরবারহকারী কোম্পানিগুলো বলছে, শীতে চাহিদা বেশি থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা ও জাহাজ সংকটের কারণে তৈরি হয়েছে এ সংকট। তবে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নাম্মুনি জয়াসংকা মাথিন্দ্রা দে জয়সা বলেন, কোম্পানিগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করে। তবে ভূ-রাজনৈতিক কারণে একটি বড় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এটা অন্যতম কারণ। মনে হচ্ছে এ সমস্যা সমাধানে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। একই ভাষ্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। দিয়েছেন দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, গত বছর নভেম্বরে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টন। আর এ বছর নভেম্বরে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন। মাসে আমদানি হয় ১ লাখ ৩০ হাজার টনের মতো। শীতে তো চাহিদা একটু বাড়ে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে অন্তত একটা কার্গো কম আসছে নভেম্বরে। ১ লাখ ৫ এর জায়গায় যদি ১ লাখ ৩০ আসতো তাহলে সমস্যা একটু কম হতো। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সিলিন্ডার গ্যাস দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার অনুরোধ জানান এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ক্রাইসিস হওয়ার কারণে তারা দাম বাড়িয়েছেন। কিন্তু এ যুক্তিটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। কারণ সরবরাহ কম হলেও গ্যাসের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে না। কেননা গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাড়তি দামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে লোয়াবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বাড়লে তারা তা কমিশনে জমা দেবে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন হলে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হবে। তার আগে বাড়তি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, সরবরাহ না থাকলেও বেশি দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে—এটাই প্রমাণ করে যে এখানে অনিয়ম হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি আইনত অপরাধ। কিন্তু বিইআরসি সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে পারছে না। গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ভাঙা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তবে বেশ কয়েকজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন,এই গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়টি আমি নিজেও ভুক্তভোগী করেছে তারপরও আমরা বাজার মনিটরিং চালাচ্ছি। কোথাও কোথাও অসঙ্গতি পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা চলমান থাকবে বলেও জানান তারা।
এলপিজি গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের চুলায় ঝুঁকছেন গৃহিনীরা: এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের অনেক গৃহিণী এখন বিদ্যুতের চুলা ও ইনডাকশনের দিকে ঝুঁকছেন। প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা থাকায় এই বিকল্পপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউবা বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে গ্যাস না থাকায় বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিকের চুলা ইনডাকশন কুকার, ইনভার্টার চুলা, রাইস কুকার ও ওভেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মহাখালীর টিবি গেইট এলাকার সরকারি চাকরিজীবী জয়ন্তী রানী দাস বৈদ্যুতিক ইনভার্টার চুলা ব্যবহার করছেন। কিন্তু তাতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, সবার তো এই খরচটা করার সুযোগ নাই। তাদের তো অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরাও অনেকদিন কষ্ট করেছি। ইনভার্টারে মূল সমস্যা রান্না করতে সময় লাগে। আর চুলার মত রান্না আসলে হয় না। এখানে কোনো রকম চালানো আরকি। যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা সাহানা কাদের ইনডাকশন চুলা কিনতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, ইনডাকশন কুকারে একটা একটা করে তরকারি রান্না হয়। অনেক সময় চাইলেও একটা খাবার রান্নার সুযোগ বা সময় কোনোটাই থাকে না। উত্তরা কাওলা দক্ষিন খানের বাসিন্দা ইতি পরভীন এলপিজি সিলিন্ডার না পেয়ে ইনডাকশন কুকারে রান্নার কাজ সারছেন। তিনি বলেন, ছোট বাচ্চাকে সব সময় গরম খাবার খাওয়াতে পারি না। আমরাও এই শীতের মধ্যে ঠান্ডা খাবার খাই। তবে কালশীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি। আয় খুব বেশি এমন নয়। বৈদ্যুতিক চুলা কেনার সামর্থ্য নেই। তাই কেরোসিনের স্টোভ কিনেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের অটোমোবাইল বাজারে সাশ্রয়ী যাতায়াতের নতুন উদাহরণ তৈরি করল ওমোডা ৯ প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (PHEV)। সম্প্রতি পরিচালিত এক ‘রেঞ্জ টেস্টে গাড়িটি মাত্র একবারের প ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব তুলে ধরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুর ...
ডেস্ক রিপোর্ট: অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ থেকে জারিকৃত এক পরিপত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কিছু খাতে ব্যয় স্থগিত/হ্রাসকরণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ...
ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার বারবার আশ্বস্ত করলেও বাস্তব চিত্রে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ...
সব মন্তব্য
No Comments