আমরান হোসাইন সাকিল: জলবায়ু পরিবর্তন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ও নিম্নভূমি দেশগুলোতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ঘটনা পৃথিবীর প্ররিবেশব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘনতা ও তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। বনভূমি ধ্বংস, হিমবাহ গলন, প্রবাল প্রাচীরের বিলীন হওয়া এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার ফলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভয়াবহভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে কেবল প্রকৃতি নয়, মানবজীবনও চরম বিপদের সম্মুখীন।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে তীব্র। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনসহ বিস্তীর্ণ বনভূমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, হারাচ্ছে ঘরবাড়ি ও জীবিকা। পাশাপাশি শহরাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
জাতিসংঘের একাধিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হার নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তবে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পরিবেশ বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী জলবায়ু শরণার্থী হতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবেশ রক্ষা শুধু একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের টিকে থাকার একমাত্র শর্ত।”
বিশ্ব সম্প্রদায় ইতিমধ্যে জলবায়ু চুক্তি, কার্বন নির্গমন হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং অভিযোজনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থায়ন এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো তাদের ন্যায্য প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর নীতি প্রয়োগ জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, টেকসই কৃষি পদ্ধতি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত না করলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়।
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক আলোচনা বা গবেষণার বিষয় নয়; এটি মানবজীবনের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব তাই আজ সবার।
স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিমানবন্দরগুলোয় বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঢাকা-সৌদি রুটে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ পরিবর্তন করা হবে। ইতিমধ্যে দেশে আনা নতুন কোচের ...
স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হয়ে এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি লঘুচাপ অ ...
স্টাফ রিপোর্টার: সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার চলাচলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস রুটে ধীরগতির ...
সব মন্তব্য
No Comments