শ্রম আইন সংশোধন করে প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের শ্রম অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ : 17 Jan 2025
শ্রম আইন সংশোধন করে প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের শ্রম অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে


স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যমান শ্রম আইন সংশোধন করে ব্যক্তিগত গাড়ী চালক, গৃহকর্মী, পর্যটন কর্মীসহ প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের  শ্রমিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি এবং মজুরি নির্ধারণের মানদন্ড নির্দিষ্ট করা, কর্মক্ষেত্রে জীবনহানি বা অঙ্গহানিতে আজীবন আয়ের মানদ-ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান করা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, স্থায়ী ধরনের কাজে আউটসোর্সিং, ঠিকাদার কর্তৃক বা অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে বর্তমানে কর্মরতদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া, শিল্প সম্পর্ক চর্চায় আই.এল.ও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ এর প্রয়োগ নিশ্চিত ও শ্রম অধিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম দুর করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, শ্রমজীবীদের জন্য রেশন, আবাসন ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে প্রত্যেকের জন্য ন্যূনতম মানবিক জীবন নিশ্চিত করা, মালিকানা নির্বিশেষে সবখাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি  ৬ মাস ও হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে শ্রমজীবীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যুক্ত ও বেকার ভাতা চালু করা এবং পাটকল, চিনিকলসহ বন্ধ সকল কলকারখানা রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় চালু করার দাবিতে আজ ১৭ জানুয়ারী ২০২৫, শুক্রবার, বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আয়োজিত এই শ্রমিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের অন্যতম শীর্ষনেতা রাজেকুজ্জামান রতন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলফিকার আলী, কোষাধ্যক্ষ আবু নাঈম খান বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, আইন সম্পাদক বিমল চন্দ্র সাহা, দপ্তর সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, নির্বাহী সদস্য এস এম কাদির, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, আউট সোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ২৮২৪ ডলার অর্থাৎ ৪ সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক আয় হতে হবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার বেশি। অথচ আমাদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারীত নেই, গার্মেন্টস শ্রমিকরা ২৪ হাজার টাকা মজুরি দাবি করায় জীবন দিতে হয়েছে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরিতো দেয়া হয়িনা, উল্টো মজুরি-গ্রাচ্যূয়টি চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। স্থায়ী কাজে ঠিকাদারি, আউটসোর্সিং, ঠিকা চুক্তিতে কাজ করানো, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র না দিয়ে চাকরির প্রমাণ গোপন করা, কোথাও পেশি শক্তি ব্যবহার করে কোথাও দালাল নেতৃত্ব ব্যবহার করে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্থ করা, দমন করার অপকৌশলের ব্যবহার এখনো অব্যাহত। সিপিডি’র গবেষণায় শ্রমিকদের দীর্ঘ দিনের দাবি সত্য প্রতিফলিত হয়েছে যে দেশের ৮৫ শতাংশ শ্রমিক শ্রম আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। রাষ্ট্রিয় কল-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমের বাজার কে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহিন করে মজুরির অধিকার কে দয়ায় পরিণত করা হয়েছে। এই সকল অব্যবস্থাপনা দুর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের জন্য খাদ্য, আবাসন, চিকিৎসা, বার্ধক্যে নিরাপত্তা, মানবিক মর্যদা নিশ্চিত করা ছাড়া বৈষম্য বিরোধের কথা অপলাপ মাত্র। শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পরিবর্তীত প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বাড়ানো এবং কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের চর্চা কে বাধামুক্ত করতে এবং বেকার ভাতা চালু করতে সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ, অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে শ্রমিকদের দাবি কে আড়াল করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবেনা বলে হুঁশিয়ারী দেন। 


সম্পর্কিত খবর

;