স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর আয়োজনে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ২য় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ ২০২৪ শুরু হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় সমাবেশের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। সমাবেশ আয়োজক কমিটির আহ্বয়ক ধরা’র উপদেষ্টা ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফারিদা আখতার। সমাবেশে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এপিএমডিডি ফিলিপাইনের সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সমাবেশ আয়োজক কমিটি এবং ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, আমরা যদি জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রতিহত না করতে পারি তাহলে এই পরিবর্তন এই সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেবে। আমরা যে সভ্যতা গড়ে তুলেছি তা অত্যন্ত সংকটে নিমজ্জিত। জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় এই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই সরকার চায় দেশটা যেন একটা সবুজ দেশ হয়। আমরা আইনের শাসন চাই। পরিবেশ, নদী রক্ষায় আইন প্রয়োগ করবো। পরিবেশ ধ্বংস, মানুষ ধ্বংস, শিশু ধ্বংস সবকিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবন্ধ। জুলাই অভ্যূত্থান আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছে।
গেস্ট অব অনার মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমরাদের কৃষি, খাদ্য এবং জীবন-জীবিকাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আমরা দেখেছি এবার ইলিশ মাছের ডিম কম এসেছে। এর পেছনে কারণ হিসাবে দেখা গেছে সময়মতো বৃষ্টি হয়নি। নদীগুলো ভরাট-দখল হয়ে যাওয়ার ফলে মাছের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। হাওরের ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই রাস্তাগুলো আমাদের ভাঙতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশনের চেয়ে আমাদেরকে কৃষির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে এগুলো আমাদের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আমাদের জন্য ক্ষতিই বয়ে আনবে। তাই অবশ্যই টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাকে এখন আর দেখি না। ইতিমধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় শীর্ষে এবং এর জন্য আমাদের কোন দায় নেই। পশ্চিমা এবং উন্নত দেশগুলো জলবায়ু উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। যেসকল দায়ী দেশগুলো উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখছে তাদেরকেই ক্ষতিপূরণ করতে হবে। আমাদেরকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কি নোট স্পিকার লিডি ন্যাকপিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি এবং খাদ্যকে প্রভাবিত করছে যা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে পৃথিবীর দক্ষিণের দেশগুলোতে। আমরা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সমস্যার সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। জলবায়ুর পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় তহবিল জরুরি। কপ ২৯ এই তহবিল আদায়ে জন্য ব্যর্থ হয়েছে। এই তহবিল তৈরির জন্য আমাদেরকে অনেক শক্তিশালী হয়ে কাজ করতে হবে।
তারা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি রিজনাল প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর কাইনান হগটন বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন যে জ্বালানি নীতি গ্রহণ করছে তা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরিত হতে হবে। এর জন্য জীবশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে। আমরা এই জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি। সমাবেশের সাফল্য কামনা করছি।
সমাবেশ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম সারিতে। জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ নামের এমন আয়োজন পৃথিবীতে এইটাই প্রথম। আমরা বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো এটি আয়োজন করছি। এই আয়োজনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি। তারা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জালাল আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন; প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, ভাইস চ্যান্সেলর, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি; মো. শামসুদ্দোহা, চিফ এক্সিকিউটিভ, সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি); শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরইএসএল); এবং রাবেয়া বেগম, নির্বাহী পরিচালক, শরিয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) প্রমূখ।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডোনা লিসেনবি, সিইও, রিভারফক্স এনভায়রনমেন্টাল; আয়ান রিভেরা, ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর, ফিলিপাইন মুভমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস (পিএমসিজে); সাঈদ বেলুচ, সাধারণ সম্পাদক, পাকিস্তান ফিশারফোক ফোরাম; ইয়ুকি তানাবি, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, জেএসিএসইএস; আয়ুমি ফুকাকুসা, এফওই জাপান (ভার্চুয়াল); মালো তাবুইস নুয়েরা, সিনিয়র এনার্জি ক্যাম্পেইনার, এপিএমডিডি; মাকিকো আরিমা, জাপান ফাইন্যান্স ক্যাম্পেইনার, অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল ও ফসিল ফ্রি জাপান।
আগামীকাল ৮ ডিসেম্বর সমাবেশের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে আগামীকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে “মিট দ্য প্রেস” অনুষ্ঠিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট: আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ-সদস্য মোছাঃ নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।আজ ...
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম। এর মধ্যে ...
স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে ঘিরে ঢাকাসহ সারাদেশে এখন পর্যন্ত নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ ...
সব মন্তব্য
No Comments