সিএজির ৩৮ নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জমা, ‘বালিশ কাণ্ডে’র অডিটও রয়েছে

প্রকাশ : 05 May 2026
সিএজির ৩৮ নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জমা, ‘বালিশ কাণ্ডে’র অডিটও রয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ অডিট প্রতিবেদনও রয়েছে। মঙ্গলবার, ৫ মে বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসব প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।


রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ওই ঘটনার নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। প্রেস সচিব জানান, প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে কথার ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত’।


২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি আবাসিক ভবনে’ আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘বালিশ কাণ্ড’ বা ‘বালিশ দুর্নীতির’ বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় ‘পদে পদে’ অনিয়ম হয়েছে। একটি বালিশ কেনার পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়।


এছাড়া কভারসহ প্রতিটি কমফোর্টারের দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। অথচ এর বাজারমূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। পাঁচটি ২০ তলা ভবনের জন্য এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রতিটি তলায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।


নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য কমফোর্টার শুধু বেশি দামে কেনাই হয়নি, কেনার পর দোকান থেকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে আলাদা ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ৩০টি কমফোর্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকা ট্রাকভাড়া দেখানো হয়। একেকটি কমফোর্টার খাট পর্যন্ত তুলতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ টাকা। আবার কমফোর্টার ঠিকমত খাট পর্যন্ত তোলা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্ত্বাবধানকারীর পারিশ্রমিক দেখানো হয়েছে প্রতিটির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা। ঠিকাদারকে ১০ শতাংশ লাভ ধরে সম্পূরক শুল্কসহ সব মিলিয়ে প্রতিটি কমফোর্টারের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ টাকা।


শুধু কমফোর্টার নয়, চাদরের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ৩০টি চাদর আনতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে। আর ভবনের নিচ থেকে খাট পর্যন্ত তুলতে প্রতিটি চাদরের জন্য মজুরি দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটাতেও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়। ভবনের প্রতি ফ্ল্যাটের জন্য একটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।


সম্পর্কিত খবর

;