'জাপানিজ ভাষা’ প্রশিক্ষণে স্বপ্ন বুনছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : 28 Jun 2026
'জাপানিজ ভাষা’ প্রশিক্ষণে স্বপ্ন বুনছে শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ জাপান। দেশটিতে রয়েছে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সুশৃঙ্খল ও উন্নত দেশ জাপান যেতে আগ্রহী হচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণরা। তবে এ সুযোগ পেতে প্রয়োজন জাপানি ভাষায় দক্ষতা ও নির্দিষ্ট কাজের যোগ্যতা। ভাষা শেখা থেকে শুরু করে জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি, সবকিছুতেই এখন বাড়ছে বিদেশগামীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ। তবে বেসরকারিভাবে অন্যান্যদের তুলনায় আর আর গ্রুপের উদ্যোগে পরিচালিত জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে উচ্চশিক্ষা, ইন্টার্নশিপ এবং দক্ষ কর্মী হিসেবে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের। স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থীকে ঘিরে আর আর গ্রুপের স্বপ্ন এবার জাপানের পথে। চমৎকার সুযোগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা দক্ষতা অর্জন করতে সার্বিক সহযোগিতা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দেশের যুবক ও তুরুন প্রজন্ম প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নিজ নিজ স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের মাধমে বেকার যুবক-তরুনদের তৈরির লক্ষ্যে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণার্থীদের বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে। যোগ্যতা, মেধা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন প্রশিক্ষণার্থীরা। এই প্রশিক্ষণ জাপানে কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা এবং দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। মেধাই হবে নির্বাচনের একমাত্র মানদণ্ড—সাফল্যের যাত্রা শুরু হোক স্বচ্ছতা ও আস্থার সঙ্গে। জাপানি ভাষা শিক্ষা এখন আর কেবল উচ্চশিক্ষিতদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের বিশাল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জাপানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ায় এবং দক্ষ কর্মী ও ইন্টার্ন ভিসার সুযোগ বাড়ায়, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষ ব্যাপক হারে ভাষা প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, জাপানে উচ্চশিক্ষা, কাজ বা স্থায়ী বসবাসের জন্য জাপানি ভাষা শেখার স্বপ্ন পূরণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিষ্ঠানের কোর্স চালু রয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতার মাধ্যমে জাপানের ভিসা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টায় নিরলসভাবে কাজ করছে আর আর গ্রুপ।

জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভাষা শেখা নিছক ব্যাকরণ মুখস্থ করার বিষয় নয়। বরং এটি তাদের জাপানি সংস্কৃতি, শিষ্টাচার এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার এক দারুণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। শিক্ষানবিশ ও পেশাদাররা ভাষাটিকে চ্যালেঞ্জিং হলেও ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করেন। কথা হয় রংপুর থেকে আগত শিক্ষার্থী মো: রাজিব আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি বলেন,জাপান যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমার ইচ্ছা ল্যাংগুয়েজ কোর্সে জাপান যাবো। খুব বেশি কোনো কারিগরি দক্ষতা আমার নেই। চেষ্টা করে যাচ্ছি, দেখা যাক কী হয়। বরিশাল থেকে আসা শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, আর আর গ্রুপ থেকে, জাপানি ভাষা শিখেছি। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে আমাদেরকে তৈরি করেছেন। একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামের আরিফ হোসেন। পল্টনের এই প্রতিষ্ঠানে জাপানি ভাষা শিখছেন বলে জানান তিনি। ভাষা প্রশিক্ষনের পর জাপান যায়োর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। কথা হয় আর আর গ্রুপের সিইও ও ফাউন্ডার মো: রবিউল ইসলাম এর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। দেশের কর্ম দক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণের পর জাপানে গেলে কোনো সমস্যার মধ্যে পড়বে না। ফলে জাপানে কর্মসংস্থানে নিজেদের সহজেই মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

বিএমইটির তথ্য মতে, জাপানে অনুমোদিত ৯৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৩০টি রিক্রুটিং এজেন্সি প্রতি বছর কর্মী পাঠাচ্ছে। ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ বছরে মাত্র পাঁচ হাজার ১৪ জন কর্মী জাপান যেতে পেরেছেন। তবে বিএমইটির তথ্য বলছে, আইএম জাপান নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০২ কর্মী জাপানে গেছেন। জাপানে যাওয়ার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন বেশিরভাগ কর্মী তা অর্জন করতে পারেন না। এজন্য খুব কম সংখ্যক কর্মী জাপান যেতে পেরেছেন বলে মনে করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্যমতে, জাপানে যেতে হলে কর্মীদের একদিকে যেমন জাপানি ভাষা শিখতে হয়, অন্যদিকে যে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষ হতে হয়। জাপানের নিয়মনীতি খুবই কঠোর। অন্য দেশের সঙ্গে জাপানকে মেলানো যায় না। তাদের মানের সঙ্গে না মিললে তারা লোক নেয় না। তারা কখনো অদক্ষ লোক নেয় না। দক্ষ শ্রমিক ছাড়া জাপানে যাওয়া অসম্ভব।

সম্পর্কিত খবর

;