স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক, ঋণখেলাপি ও বিল বকেয়াধারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই

প্রকাশ : 21 Jul 2026
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিও শিক্ষক, ঋণখেলাপি ও বিল বকেয়াধারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি, তাদের জামিনদার এবং ইউটিলিটি বিল বকেয়া রয়েছে এমন ব্যক্তিরাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। মঙ্গলবার ২১ জুলাই কমিশনের ১২তম সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।


আখতার আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ—এই পাঁচটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সংক্রান্ত আইন নিয়ে কমিশন সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণখেলাপি ও জামিনদারদের অযোগ্যতার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলে প্রার্থিতা বাতিল হবে বলেও কমিশন একমত হয়েছে।


তিনি আরও জানান, এসব প্রস্তাব কমিশন চূড়ান্ত করেছে এবং দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন সংশোধনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী যোগ্যতার শর্ত হিসেবে এসব বিধান কার্যকর হবে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক একাধিক লাভজনক পদে থাকতে পারেন না এবং এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।


জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর ও তদূর্ধ্ব নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একজন নাগরিক ১৮ বছর পূর্ণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হন। তবে এই ডাটা সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমিয়ে আনার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত নামানো যায়, সে বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ আরও সহজ হবে।


কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক ঋণ, ইউটিলিটি বিলসহ আর্থিক দায় পরিশোধে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ তৈরি হলো। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট প্রকাশের পর এসব বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।


সম্পর্কিত খবর

;