হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

তেলকে ‘কৌশলগত অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত ইরানের

প্রকাশ : 12 Mar 2026
তেলকে ‘কৌশলগত অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে এই জলপথকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।


বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ফলে উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র সম্প্রতি জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো জাহাজকে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে। প্রয়োজনে এসব জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। তাই এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে কূটনৈতিক মহল আশা করছে, উত্তেজনা আরও বাড়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে। অন্যথায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

;