প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া
পতিত স্বৈরাচারকে সুযোগ করে দিচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে দেশ নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে
বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি’র সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী আজ ১৪ নভেম্বর ২০২৫ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও রাজনৈতিক দলসমূহের অনৈক্যকে বাড়িয়ে দেশকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বাম নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে যে কথা প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে বলেছেন তা একদেশদর্শী ও সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধানে আদেশ জারি বা গণভোটের কোন বিধান নাই। রাষ্ট্রপতি কেবল অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে সংবিধান পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোট ও আদেশ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাতে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ থাকছে না। ঐকমত্য কমিশনে সংবিধান সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টিতে সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন; এ তথ্যটিও সঠিক নয়। ৩০টি প্রস্তাবে সকল রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে এরকম প্রস্তাব ১১টির বেশি নয়। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি’র একমত হওয়াকেই যদি সকলের ঐকমত্য বলে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে এতদিন ধরে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠককেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভাষণে যে চারটি বিষয়ে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে গণভোট এর কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবে গোজামিলের ভোট হবে। সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঐকমত্য কমিশন যে প্রস্তাবনা দিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণেও একই কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত উঠে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের যে ন্যূনতম সংস্কারটুকু করার সুযোগ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাছাড়া ১৮০ দিন জাতীয় সংসদ দ্বৈত সত্তা নিয়ে চলবে, অর্থাৎ একই সাথে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছে; এটাও সংবিধান পরিপন্থী এবং এ বিষয়ে ঐক্যমত্য কমিশনে কোন আলোচনা হয়নি। এবং রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে কোন ঐকমত্য হয়নি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা গতকাল তাঁর ভাষণে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস বিভি’র সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, এটি এযাবৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ হবে বলে মন্তব্য করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে কেন সরকার একের পর এক আমাদের লাভজনক বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে অতি তৎপর হয়ে উঠেছে তা দেশবাসীর মনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করছে। এই ধরণের প্রকল্পে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক নানা ঝুঁকি থাকে। দেশের নানা মহল থেকে বারবার সেই আশঙ্কা ব্যক্ত করা হলেও সরকার সেদিকে কর্ণপাত না করে পূর্বের স্বৈরাচার সরকারের বন্দর ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এহেন তৎপরতার মাধ্যমে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকেই উন্নয়ন বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন এবং দেশকে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের গুঁটিতে পরিণত করছেন।
প্রতিক্রিয়ায় বাম জোট নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে ভাষণে একটি বাক্যও প্রধান উপদেষ্টা উচ্চারণ করেননি। যা আমাদেরকে হতবাক করেছে। এ যেন রোম নগরী যখন পুড়ছে সম্রাট নীরু তখন বাঁশি বাজানোর ঘটনার মতো। মব সন্ত্রাস লাগামছাড়া, নারীদের হেনস্থা করা হচ্ছে, উগ্র মৌলবাদী তৎপরতা সমাজজীবনকে বিষিয়ে তুলছে, দিনে দুপুরে ফিল্মি কায়দায় গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, কারখানা বন্ধ হচ্ছে, শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, মানুষের বেঁচে থাকার উপায়ের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে আর এই সুযোগে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি নানাধরনের গুপ্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে জনজীবনে এক চরম নিরাপত্তাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সরকারের গত ১৫ মাসের কর্মকান্ডই এই পতিতি শক্তিকে জনপরিসরে স্থান করে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা ও ত্রুটিপূর্ণ বিচার এবং মামলা বাণিজ্য জনমনে আশঙ্কা তৈরি করেছে এই বিচার আদৌ হবে কি? এখনও কোন মামলারই বিচার হয়নি অথচ প্রধান উপদেষ্টা যেভাবে বলেছেন বিচার এগিয়ে যাচ্ছে তা কোনভাবেই যথার্থ বলে প্রতীয়মান হয় না।
নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহ্বানজানিয়ে বলেন, এই গণভোট ও উচ্চকক্ষ অপ্রয়োজনীয় এবং জাতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কেবলমাত্র একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদেরই। তাই কালবিলম্ব না করে দ্রুত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করুন। দেশের বন্দরসহ জাতীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থেকে আইন শৃংখলা পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো প্রতিকারে উদ্যোগ নিন।
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ১৩টি বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী আইন, যার ফলে ভবিষ্যতে পৌরসভা নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ এ ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া এবং শেরপুর দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফ ...
সব মন্তব্য
No Comments