সিআইপাড়া সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ : 20 Jan 2026
সিআইপাড়া সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

পিরোজপুর অফিস: জেলাবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ডিসি পার্কে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পিরোজপুর শহরের সিআইপাড়া সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কটির এক পাশে পুকুর এবং অপর পাশে জেলা প্রশাসকের বাংলোর পুরোনো বাউন্ডারী ওয়াল থাকায় বছরের পর বছর ধরে সড়ক প্রশস্তকরণ ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম থমকে রয়েছে। সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপিত বিদ্যুতিক খুঁটিগুলো যাতায়াতকারীদের জন্য কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীবাহী যান ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিরোজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কৃষ্ণচূড়া মোড় থেকে বলেশ্বর ব্রিজ-গাজীপুর সংযোগ সড়ক হয়ে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সিআইপাড়া সড়কের পুকুরপাড়-সংলগ্ন অংশে কোনো সুরক্ষা বাঁধ নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের একাংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। অপরদিকে জেলা প্রশাসকের বাংলোর জরাজীর্ণ বাউন্ডারী ওয়াল সড়কের দিকে হেলে পড়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া সড়কসংলগ্ন একটি পুরোনো কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কের মাঝামাঝি স্থাপিত বিদ্যুতিক খুঁটিগুলো চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের বাইরে পড়ে আছে। তাঁদের দাবি, পুকুরপাড়ে টেকসই সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, জেলা প্রশাসকের বাংলোর পুরোনো বাউন্ডারী ওয়াল পুনর্নির্মাণ, বিদ্যুতের খুঁটি পরিকল্পিতভাবে স্থানান্তর, সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত নির্মাণ করা হলে সিআইপাড়া সড়কটি একটি আধুনিক নগর সড়কে রূপ নিতে পারে।

এলাকাবাসীর মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে সিআইপাড়া সড়কের মাধ্যমে নামাজপুর ও ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলা, বাগেরহাট এবং মংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে পিরোজপুর-নাজিরপুর-ফরিদপুর-ঢাকা রুটের সঙ্গে মংলা বন্দরের কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। সচেতন মহলের ধারণা, এই রুট চালু হলে বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও বেনাপোলসহ অন্তত ১৮টি রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি এই সড়ক ও সংযোগ সড়ককে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি ও শিল্পখাতে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে। তরুণ সমাজসেবক মো. মুর্শিদ শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সড়কের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করছি। বিভিন্ন সময় স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। সড়ক প্রশস্ত করা হলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। বর্ষাকালে পানি বাড়লে রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বলেশ্বর নদের দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান বলেন, এই সড়ক দিয়েই সদর সার্কেল অফিসে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, জেলাবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ডিসি পার্কে যাওয়ার জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্বিক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;