স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ হয়। নগরীর দামপাড়া এলাকায় তৎকালীন পুলিশ ব্যারাকের অস্ত্রাগার দখল করে নেন বিপ্লবীরা। সেখানেই অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর চারদিন স্বাধীন ছিল চট্টগ্রাম। পরে ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিন ঘণ্টার সেই যুদ্ধে ৮২ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয় এবং ১২ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
সেই বিপ্লবীদের স্বরণে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবসের ৯৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এখনো চলমান।
তিনি আরো বলেন, “ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের জনগণ প্রায় পৌনে ২০০ বছর লড়াই করেছে। কিন্তু সেই জাতীয় মুক্তি আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সফল হয়নি, কারণ উপমহাদেশ সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আজও ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে পারেনি।”
মোহাম্মদ শাহ আলম আরও বলেন, “একাত্তরে আমরা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর দেশে সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ভাবাদর্শ পুনর্বাসিত হয়েছে। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পরেও দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার নতুন উত্থান ঘটেছে। এই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আমাদের উপলব্ধি করতে হবে।” সিপিবির সভাপতি বলেন, সূর্যসেনের নেতৃত্বে যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই শুরু হয়েছিল, তা আজও চলমান। এই সংগ্রাম উপমহাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, কমিউনিস্ট ও বামপন্থী শক্তি আজো জারি রেখেছে। কোটি কোটি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে এই লড়াই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাম্রাজ্যবাদকে তিনি বিশ্বমানবতার শত্রু, দেশের শত্রু এবং উপমহাদেশের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদ এখন নতুন কৌশলে শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আগে ব্রিটিশরা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করত, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের সম্পদ লুটে নিয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সেই লুটপাট ও পাচার থামেনি। আজও দেশের টাকা পাচার হয়ে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলা হচ্ছে। নান্নু আরও বলেন, “১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। এখনও অর্থপাচার বন্ধ হয়নি, শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ হয়নি, মেহনতী মানুষকে শোষণ করা চলছে। ব্রিটিশ আমল বা পাকিস্তান আমলের মতো শোষণ ও দমন এখনও বহাল আছে।”
চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের চেতনা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মাস্টারদা সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের যে বিপ্লবী চেতনা ছিল, আগামী দিনের ছাত্র ও যুব সমাজ সেই চেতনা ধারণ করে দূর্বার সংগ্রাম গড়ে তুলবে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
যুবনেতা নান্নু ১৮ এপ্রিলকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে বলেন, “২৩ নভেম্বর নয়, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের দিন ১৮ এপ্রিলকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।”
সমাবেশের সভাপতি যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য ত্রিদিব সাহা তার বক্তব্যে বলেন, মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ আজও আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। বিট্রিশ সাম্রাজ্যবাদ এদেশের সম্পদ লুট করে নিজের দেশে নিয়ে গেছে, পাকিস্তান এদেশের সম্পদ লুট করে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করেছে। বিট্রিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে আমাদের পূর্বসূরিরা, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সেই লড়াই সংগ্রামে আমরা বিজয়ী হয়েছি। স্বাধীন বাংলাদেশের শোষকদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভবিষ্যতেও কেউ যদি স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায় তার ভাগ্যও জনগণ নির্ধারণ করবে। গণ আকাঙ্ক্ষা থেকে গণ অভ্যুত্থাণ হবে, সরকার যাবে সরকার আসবে কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এক এবং অভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। শ্রমিক-মেহনতি মানুষকে নিয়ে মৌলবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দিতে এদেশের কমিউনিস্টরা সূর্যসেন-প্রীতিলতা হয়ে উঠবে।
যুব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য যুবনেতা আশিকুল ইসলাম জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ ইরান মোল্লা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রফিজুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা সজিব প্রমূখ।
সমাবেশের শুরুতেই যুব বিদ্রোহ দিবস স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), সিপিবি নারীসেল, জাতীয় যুব জোট, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ গৃহ শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সুয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাইয়ের আন্দোলন ঘিরে করা আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিন ...
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে এক পীরের আস্তানায় উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা ও কুপিয়ে পীর শামীমকে হত্যা, দরবার শরীফ ভাংচুর এবং শাহবাগ থানার সামনে ট্রান্স জেন্ডার ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহতারাম আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, কথা বলতে পারব, ততদিন সংসদে থ ...
সব মন্তব্য
No Comments