বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ : 19 Jan 2026
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম–এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।


জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাণীতে তিনি বলেন,

“শহীদ জিয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী ও স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা। তাঁর ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”


বিএনপির কর্মসূচি


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এক বিজ্ঞপ্তিতে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কর্মসূচি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।


কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ।


এছাড়া মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় কাকরাইলস্থ ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন।


জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিট পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


শহীদ জিয়াউর রহমান: সংক্ষিপ্ত জীবন ও ইতিহাস


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন।


১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন।


স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন দর্শনের প্রবর্তন করেন। তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।


১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। দেশ ও জাতির ইতিহাসে তিনি একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী সেনানায়ক ও জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

সম্পর্কিত খবর

;