মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন

প্রকাশ : 13 Apr 2025
মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে  ছাত্র ইউনিয়ন

ডেস্ক রিপোর্ট:  উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সাথে আঁতাত ভালো ফল বয়ে আনবে না বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনে যে কুযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রত্যাখান করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। চারুকলার শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে শোভাযাত্রাকে সরকারিকরণেরও নিন্দা জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। বর্ষবরণের শোভাযাত্রা পূর্বের নামে আয়োজনের দাবি জানায় ছাত্র ইউনিয়ন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ আজ ১৩ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার, এক যৌথ বিবৃতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার সরকারি নীতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, “স্বৈরাচার এরশাদের আমল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরা, যা পরবর্তীতে ইউনেস্কো দ্বারা স্বীকৃত হয়। স্বৈরাচারের পতনের পর এবার মুক্তভাবে নববর্ষ পালনের আশা থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর মদদে বর্ষবরণের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করতে যে কুযুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে তাও আমরা প্রত্যাখান করছি। চারুকলার শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে শুধুমাত্র গুটিকতক শিক্ষকদের নিয়ে বর্ষবরণের শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকেই উগ্রবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর আস্ফালন দেখা যাচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর প্রেসক্রিপশনে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনই এর প্রমাণ। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাথে আঁতাত দেশের সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত নিয়ে আসবে।

গতকাল চারুকলায় শোভাযাত্রার মোটিফ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চারুকলার প্রতিটি প্রাঙ্গণ সিসিটিভির আওতাভুক্ত হলেও এখনও পর্যন্ত অগ্নিসংযোগকারীদের খুঁজে বের করা হয়নি। সারাদিন পতিত স্বৈরাচারের ভূত দেখা সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিজেও পতিত স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী ছিলেন, এখন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাথে হাত মিলিয়েছেন। অবিলম্বে বর্ষবরণের শোভাযাত্রার পূর্বের নাম ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই। সরকার যদি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রেসক্রিপশনে বর্ষবরণের শোভাযাত্রার আয়োজন করে তবে জনগণ তা প্রত্যাখান করবে এবং প্রয়োজনে পালটা শোভাযাত্রার আয়োজন করতে বাধ্য হবে।”

সম্পর্কিত খবর

;