এনসিপির ছায়া বাজেট আলোচনায় বক্তারা

বাজেট লুটেরাদের জন্য নয়, জনগণের জন্য হতে হবে

প্রকাশ : 21 May 2026
বাজেট লুটেরাদের জন্য নয়, জনগণের জন্য হতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: পুরনো ধারাবাহিকতা ভেঙে জনগণের জন্য বাজেট প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, অনলাইনে সমন্বিত ও ফেসলেস কর ব্যবস্থা চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে সরকারের আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


বৃহস্পতিবার ২১ মে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘ছায়া বাজেট কমিটি’ আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রথম সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর’ শিরোনামে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়।


সভাটি উদ্বোধন করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. আতিক মুজাহিদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিটির উপ-প্রধান আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। সভাপতিত্ব করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া ফারজানা দিনা।


আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সিএজি, অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম এবং সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান।


আখতার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে বাজেট মুখ্য বিষয় ছিল না। দেশ পরিচালনা করত একটি কর্পোরেট গোষ্ঠী। তাদের হাত ধরেই দেশের পয়সা বিদেশে পাচার হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, এবারের বাজেট যেন লুটেরাদের বাজেট না হয়। বাজেট যেন সাধারণ মানুষের জন্য হয়।’


ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দয়া চায় না, ফেয়ারনেস চায়। করের বোঝা যেন কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর না পড়ে। তারা এমন কর ব্যবস্থা চায়, যেটাকে বিশ্বাস করা যায়।’


মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম। সরকার স্থানীয় বাজার থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণের খরচ বেড়ে যাবে। তিনি সেফটি নেট প্রোগ্রামগুলোকে ডিজিটালাইজড করে একটি ছাতার নিচে আনার এবং দেউলিয়া ব্যাংক অবসায়নের মাধ্যমে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পরামর্শ দেন।


তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের চলতি ব্যয় মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল। এ ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ব্যয় ২৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে। তিনি এনআইডির মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ভূমি ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন যুক্ত করে সমন্বিত ডিজিটাল কর ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন।


ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসপ্রাপ্ত। কেবল খেলাপি ঋণের পরিমাণই ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এস আলম গ্রুপ একাই ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, যা আগামী এডিপির সমান।’


সভাপতির বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘কর ব্যবস্থা সংস্কার জরুরি। গরীব মানুষ কর দেয়, বড়লোকেরা লুট করে। কর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী না করলে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্কের ভাটা পড়বে।’

সম্পর্কিত খবর

;