আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানে চলমান সংঘাত ১০০০তম দিনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে।
প্রায় তিন বছর ধরে চলমান সহিংসতা, মানবিক সহায়তায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতির কারণে সুদান আজ এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। WHO-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালে দেশটির আনুমানিক ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।
চলমান যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবার ওপর ধারাবাহিক হামলা, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির ফলে সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। WHO জানায়, দেশটির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (৩৭ শতাংশ) বর্তমানে সম্পূর্ণ অকার্যকর, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যসেবার ওপর অন্তত ২০১টি হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে WHO। এসব হামলায় ১,৮৫৮ জন নিহত এবং ৪৯০ জন আহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে জানানো হয়েছে।
WHO-এর সুদান প্রতিনিধি ড. শিবলে সাহবানি বলেন, “এক হাজার দিনের সংঘাত সুদানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। রোগ, ক্ষুধা ও মৌলিক সেবার অভাবে মানুষ এক ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি।”
সুদানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ, যা দেশটিকে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকটে পরিণত করেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ভাঙন এবং টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় কলেরা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও হামসহ নানা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
WHO জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১৮টি রাজ্যে কলেরা, ১৪টি রাজ্যে ডেঙ্গু এবং ১৬টি রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের চিকিৎসা পাওয়াও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে WHO সুদানের ফেডারেল ও রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত ৪৮টি স্বাস্থ্য অংশীদারকে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ৩,৩৭৮ মেট্রিক টন ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ কলেরা টিকা পেয়েছে এবং দেশে ম্যালেরিয়া টিকা চালু ও সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে সংস্থাটি। WHO-সমর্থিত হাসপাতাল ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক থেকে ৩৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়েছে। তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি শিশুকে বিশেষ চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
WHO সতর্ক করে জানিয়েছে, দারফুর ও কর্ডোফান অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় সহিংসতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সংস্থাটি সুদানের সব অঞ্চলে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন মানবিক প্রবেশাধিকার এবং অতিরিক্ত অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
পরিশেষে, WHO সংঘাতের সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে সুদানের জনগণের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একটানা ৬২ দিনের তীব্র সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক বক্তব্যে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়সীমা ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি, বাল্টিক সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দেশের অভ্যন্তরের একটি বড় শোধনাগ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রবিবার (৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কা ...
সব মন্তব্য
No Comments