পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফাহিম

প্রকাশ : 31 Jul 2026
পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফাহিম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মী ফাহিম মুনতাসির।


বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা শূন্যরেখায় পৌঁছে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তার ২১ দিনের এই পদযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


গত ১০ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনি পদযাত্রা শুরু করেন। শুরুতে তার সঙ্গে দুজন সহযাত্রী থাকলেও ফেনীতে এসে তারা যাত্রা থামিয়ে দেন। এরপর একাই লক্ষ্য পূরণে পথ চলেন ফাহিম।


ফাহিম মুনতাসিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ায়। তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যুব প্রধান। পেশায় তিনি একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক। বিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি সামাজিক ও পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত।


যাত্রাপথে তিনি টেকনাফ, উখিয়া, চকরিয়া, চট্টগ্রামের কেরানীহাট, পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড, ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, ঢাকা, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর, মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, রংপুরের পায়রাবন্দ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া হয়ে বাংলাবান্ধায় পৌঁছান। পথে বিভিন্ন চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সচেতনতামূলক আলোচনা ও বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।


যাত্রা শেষে ফাহিম বলেন, আমি পেরেছি, এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আমার এই পদযাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি সামান্য কিছু মানুষও পরিবেশ রক্ষা ও হাঁটার প্রতি আগ্রহী হন, তবেই আমার কষ্ট সার্থক। তিনি জানান, যাত্রাপথে তিনি মানুষের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন এবং পরিবেশকর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের বন্ধুরা তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।


ফাহিম বলেন, সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন। হাঁটার অভ্যাস বাড়লে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে, যা জিরো-কার্বনের স্বপ্ন পূরণে ভূমিকা রাখবে। সড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিত গাছ কাটা, পাখির অভয়ারণ্য নষ্ট করা এবং জলাশয় ভরাট পরিবেশের জন্য হুমকি, তাই পরিবেশ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।


সম্পর্কিত খবর

;