বিশেষ প্রতিনিধি: দেশকে স্বাধীন করতে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা না পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তার বাড়ি।
এই মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিলেও গ্রহণ করেননি মুক্তিযোদ্ধার সনদ। তালিকাতেও নেই তার নাম। তবে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সহযোদ্ধাসহ অনেকেই দাবি করছেন সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে যখন বুঝলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ ব্যতিত তার অর্জন মূল্যহীন তখন আবেদন করলেও তালিকাতে ওঠেনি তার নাম। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ছাড়াই গত ২৪ আগস্ট-২০২১ মৃত্যুবরণ করেন সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু।
তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন তার অনেক সহযোদ্ধা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার সেক্টর কমান্ডার শহীদুলøাহ প্রধান। তিনি বলেন, সোহরাব হোসেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না পাওয়া ও সরকারি সম্মাননা না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। তিনি আমার অধীনেই যুদ্ধ করেছেন সে একজন দÿ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়াও তার দুই চাচাতো ভাইকে তিনি তার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করতে নিয়ে যান তারাও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। তার ক্যাম্পের (মুজিব বাহিনী) সকল সহযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রত্যায়ন পত্র আমাদের হাতে এসেছে। এছাড়াও তাহার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তাঁর সহযোদ্ধারা দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁর সহযোদ্ধা ও চাচাতো ভাই মুক্তিযোদ্ধা খয়বর হোসেন খন্দকার বলেন, তিনি একজন গর্বিত মুজিব বাহিনীর সদস্য ছিলেন ১৯৭১ সালে ভারতের ‘দেরাদুন’ ক্যাম্পে ৫৬ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। তারপরে ২৬ আগস্ট ১৯৭১ তিনি মুজিব বাহিনীর কমান্ডার অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ প্রধানের অধীনে দই খাওয়া অস্থায়ী ক্যাম্পে যোগ দেন। যুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ৬ নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। সে সময় তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং এ থার্ড ইয়ারে পড়তেন। যেহেতু তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন তাই তাকে মুক্তিযুদ্ধে রেডিও সিগন্যাল এবং এক্সপ্লোসিভের ওপর বিশেষভাবে ট্রেনিং দেয়া হয়। যুদ্ধের পরে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় ফিরে যান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সময়ের আগেই অবসর গ্রহণ করেন। যে সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান ও যাচাই-বাচাই করা হয় সে সময় সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশ-বিদেশে তার ডিউটি থাকার কারণে তালিকা করার সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তাই ওই সময় তিনি বাদ পড়েন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে। পরবর্তীতে আবার তিনি আবেদন করেন, এতে বিভাগীয় জেলা কমিটি যাচাই-বাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান করার অনরোধ করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে তার নাম আর এখন পযর্ন্ত ওঠেনি। এদিকে সহযোদ্ধাদেরই দাবি সোহরাব হোসেন খন্দকার রঞ্জু দেশের একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তাই সে যেন তার প্রাপ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি পায় এটাই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রত্যাশা করছি। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয় এর একান্ত হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
স্টাফ রিপোর্টার: ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৬ বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। রোববার (৮ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয় ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রয়াত স্বজনের মুখচ্ছবি। কেউ পরিষ্কার করেছেন সমাধি, কেউ ব্যস্ত ছিলেন মঠ ধোয়া-মোছায়। কোথাও নতুন রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে সম ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয ...
সব মন্তব্য
No Comments