ফরিদপুরে ত্রিপল মার্ডার: গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

প্রকাশ : 28 Apr 2026
ফরিদপুরে ত্রিপল মার্ডার: গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর তিন হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা (২৮) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে ধরা হয়, যেখানে সে আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম জানান, পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।


র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্তকে আটকের সময় তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল এবং কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা গেছে। বিষয়টি তার মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তদন্তে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশ মোল্লা হঠাৎ কোদাল হাতে এসে উপস্থিত হয়ে আশপাশের লোকজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।


এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) এবং কাবুল (৪৫) নিহত হন। গুরুতর আহত হন রিয়াজ মোল্লা (৪৫), যাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।


স্থানীয়দের দাবি, আকাশ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে হঠাৎ কী কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।


ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মনে হলেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকাশ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 


ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;