আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কর্তৃক আটকের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে উত্তাল জনসমুদ্র তৈরি হয়েছে। মাদুরোর অবিলম্বে মুক্তি এবং মার্কিন আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে নারী ও সামরিক বাহিনীর একটি বিশাল অংশ এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় পরিস্থিতি এখন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এক মহাজাগরণে রূপ নিয়েছে।
মিরাফ্লোরেস অভিমুখে পদযাত্রা
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন ‘ডেল্টা ফোর্স’ কর্তৃক মাদুরোকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজধানী কারাকাসের প্রধান সড়কগুলো সাধারণ মানুষের দখলে চলে যায়। ঐতিহাসিক মিরাফ্লোরেস প্যালেস (প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ) অভিমুখে লাখ লাখ মানুষ পদযাত্রা শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় বীর সাইমন বলিভারের ছবি দেখা গেছে। মিছিল থেকে স্লোগান উঠছে-"আমরা গোলাম নই, আমরা স্বাধীন", "মাদুরোকে ফিরিয়ে দাও"।
জরুরি অবস্থা ও সামরিক অবস্থান
দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হামলা হিসেবে অভিহিত করে মাদুরোর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই অভিযানকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শ্রমিক ধর্মঘট ও অর্থনৈতিক প্রতিরোধ
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি (PDVSA)-এর শ্রমিকরা সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করেছেন। তেলখনির হাজার হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, "যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা আমাদের তেল দেব না।" এছাড়া সমুদ্রবন্দরগুলোতেও পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে কোনো মার্কিন রসদ বা সরঞ্জাম প্রবেশ করতে না পারে।
নারীদের অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ
কারাকাসের রাজপথে কয়েক হাজার নারী সাদা পোশাক পরে শান্তি ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে পদযাত্রা করেছেন। তারা মার্কিন হস্তক্ষেপকে শিশুদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়ে গান, কবিতা এবং ড্রাম বাজিয়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেও এই অভিযানের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
সহিংসতা ও সংঘর্ষের খবর
বিক্ষোভের অধিকাংশ জায়গা শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় মার্কিন মদতপুষ্ট বিরোধী দল ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। শহরের প্রধান হাইওয়েগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে এবং ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র এলাকা বা 'বারিও' থেকে আসা সাধারণ মানুষ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকা পাহারা দিচ্ছে।
বর্তমানে পুরো দেশ একটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে বলিভারিয়ান বিপ্লব রক্ষার শপথ নিয়ে সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাজপথে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মানির বার্লিনে প্রাইড অনুষ্ঠান চলাকালে জনতার ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় একজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ এবং তাকে ধরতে রাজধ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি পর্যটন ক্যাম্পে রাতভর হামলায় চার শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার নিযুক্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে। হামল ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে কক ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ সেনাসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে ...
সব মন্তব্য
No Comments