ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশী বাংলাদেশী

প্রকাশ : 08 Jul 2026
ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশী বাংলাদেশী

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, এরমধ্যেও শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রীয় রুট দিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালিতে পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।


ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী সমুদ্রপথে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৭ হাজার ৩৭৭ জনের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। 


ইতালির জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক স্ন্যাপশট অনুযায়ী, চলতি বছর ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক। জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আসা ৪ হাজার ৭৪৬ জনের মধ্যে ৩৫ শতাংশই বাংলাদেশি। ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্যেও কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে বাংলাদেশিরা শীর্ষে। 


ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৭ জুলাই পর্যন্ত আসা ১৪,৬২৩ জনের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও সোমালিয়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসেও বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। ওই সময় ২,৫৮৯ জন বাংলাদেশি ইতালিতে পৌঁছান, যা আগের বছরের একই সময়ের ১,২০৬ জনের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সবাই লিবিয়া থেকে রওনা হয়েছিলেন। 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারত্ব, কম মজুরি ও আইনগত পথে ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ কম থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে। দালালদের মাধ্যমে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এ যাত্রায় লিবিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণের ঘটনাও ঘটছে। 


ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অবৈধভাবে সমুদ্র ও বলকান সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে রয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সীমান্ত পরিস্থিতি, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মানব পাচারের কারণে অভিবাসন চাপ যেকোনো রুটে বাড়তে পারে। 


আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,৮৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। 


বাংলাদেশ সরকার ও ইতালি উভয় দেশই মানব পাচার বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, সচেতনতা বাড়াতে এবং পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। 


ইতালিতে বর্তমানে ৫৪ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক বাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা রোমানিয়া ও মরক্কোর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেসিডেন্স পারমিট পাওয়া জাতিগোষ্ঠী। 


সম্পর্কিত খবর

;