ঢাকায় ৩ দিনের রিমান্ড

উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে ২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল সিঙ্গাপুর

প্রকাশ : 18 Jul 2026
উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে ২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল সিঙ্গাপুর

স্টাফ রিপোর্টার: জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই বাংলাদেশি নাগরিককে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার আদালত। বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাদের আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন। 


রিমান্ডে যাওয়া দুজন হলেন সাহেদুল ইসলাম ও রিশাদ তায়ানী। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে সেখানকার পুলিশ তাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আটক করে এবং পরে ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠায়। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিন মঞ্জুর করেন। 


রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালায় কি না এবং অর্থের জোগানদাতা কারা—তা জানতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। 


শুনানিকালে রিশাদ তায়ানী আদালতকে বলেন, ২০২৩ সালে ‘ফারাবী’ নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাকে আটক করেছিল। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফারাবী হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা, যিনি আগে কারাভোগ করে মুক্তি পেয়েছেন। 


এর আগে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বাংলাদেশি নাগরিকদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরত পাঠিয়েছে। ২০১৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ২৭ জন বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিককে আল-কায়েদা ও আইএসের আদর্শ ছড়ানোর অভিযোগে আটক করে ২৬ জনকে দেশে ফেরত পাঠায় সিঙ্গাপুর। ২০১৬ সালের এপ্রিলে আরও ৮ বাংলাদেশিকে ‘ইসলামিক স্টেট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করে দেশে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক করা হয়। তখন সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই গ্রুপের সদস্যরা বোমা তৈরির ম্যানুয়াল সংগ্রহ করেছিল এবং অস্ত্র কেনার জন্য অর্থ তুলেছিল। 


কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, ফেরত আসা দুজনের নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;