ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ল

প্রকাশ : 24 Apr 2026
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, লেবাননের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং দেশটিকে হিজবুল্লাহ-এর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরান-সম্পর্কিত আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।

গত সপ্তাহে প্রথম দফায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে তা বাড়ানো হলো। মূলত সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষ থামানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোশেপ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, লেবাননের জন্য হিজবুল্লাহ এখনো একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার দাবি করে, যা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। লেবানন এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিলেও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় তিন দশক পর উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে লেবাননে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। হতাহতের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

সম্পর্কিত খবর

;