"চট্টগ্রাম ২.০"এর সমন্বয়ক ছিদ্দিকুর রহমান হলেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক

প্রকাশ : 19 Oct 2025
"চট্টগ্রাম ২.০"এর সমন্বয়ক ছিদ্দিকুর রহমান হলেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক

ডেস্ক রিপোর্ট: আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভা গতকাল ১৮ অক্টোবর  পার্টির বিজয়নগরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু এবং সভা পরিচালনা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।


সভা শেষে এবি পার্টির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল সার্কুলারে জানানো হয়, “কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জনসংযোগ ও ব্র্যান্ডিং সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।”


চট্টগ্রাম বিভাগের সক্রিয় তরুণ সংগঠক জনাব ছিদ্দিকুর রহমান প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এবি পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিবেদিত। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক হিসেবে তরুণ সমাজের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক তেরটি সিস্টার সিটির সমন্বয়ে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ গঠনের প্রস্তাবসহ চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর পাঁচ দফা প্রস্তাবনা স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।


ছিদ্দিকুর রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী (৩৭তম ব্যাচ)। তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই ২০০৭ সালে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারে প্রতিষ্ঠা করেন উইশ-ওয়ার্ল্ড ইন্টেগ্রিটি ফর সার্ভিং হিউম্যানিটি, যার মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবিক মর্যাদা পুনঃস্থাপন।


তিনি উদ্ভাবন করেন “মাইক্রো সাপোর্ট” মডেল, যা ক্ষুদ্র অথচ তাৎক্ষণিক সহায়তার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। পরবর্তীতে এই দর্শনের ভিত্তিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সিসিজেডএম–সেন্টার ফর করপোরেট জাকাত ম্যানেজমেন্ট, উইশ ব্যাংক এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আলোর স্কুল।


ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজ ও সংস্কৃতিমূলক নানা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি শিশু-কিশোর সংগঠন “অংকুর শিশু-কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ”-এর সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন; তাঁর সম্পাদিত “অংকুর ভর্তি সহায়িকা” চট্টগ্রামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।


এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন রসুলবাগ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, ফ্রন্ট ফাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন, এবং অপরাজেয় ক্লাব-যা বাকলিয়া অঞ্চলে সামাজিক সচেতনতা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আইডিয়াল হোম ও ক্যারিয়ার এইট নামে দুটি ছাত্র উন্নয়নমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন, যেখান থেকে বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে।


চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা খাতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি চিটাগাং ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সায়েন্টিস্ট জামাল নজরুল ইসলাম একাডেমি, এবং মেট্রোপলিটন সায়েন্স কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রামকে উন্নত, প্রযুক্তি ও সেবা নির্ভর আধুনিক নগর গঠনের প্রত্যয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “চট্টগ্রাম ২.০”-যা ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


সম্পর্কিত খবর

;