হামে শিশুমৃত্যু

ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এমপির মামলার আবেদন

প্রকাশ : 08 Jun 2026
ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে এমপির মামলার আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। সোমবার, ৮ জুন সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এ আবেদন করেন।


আদালত সূত্র জানিয়েছে, বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আদেশ অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বলেন, মামলার আবেদন জমা পড়েছে। তবে এখনো শুনানি হয়নি।


মামলার আবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন— সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।


আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দায়িত্বে অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে। আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা আমদানি না করে অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম-রুবেলা টিকা অন্যতম। দীর্ঘদিন নিয়মিত টিকা প্রদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হাম ও রুবেলায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকে ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় টিকা সংকট তৈরি হয়।


আবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। টিকা আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। একাধিক বৈঠকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।


এর ফলে দেশে বিপুল সংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


আবেদনে আরও বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে। কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, টিকা সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে।


আবেদনকারীর দাবি, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং কু-উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং রাষ্ট্র ও জনগণ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শিশুদের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;