সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি : নৌপথ ও সড়কপথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়েছে। 'নৌপথ ও সড়কপথে অবহেলিত মৃত্যু: যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে করণীয়' বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।
বক্তারা সড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশও করেন।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সোমবার (৩ জানুয়ারি ২০২২) এই মতবিনিময় সভা করে।
এতে বক্তারা বলেন, শুধু আইন সংশোধন করে সড়ক বা নৌ দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে লঞ্চের মালিক, চালক ও সুপারভাইজারকে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি তাদের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
তারা বলেন, ১৯৭৬ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে সমুদ্র অধিদপ্তরে থাকা নৌ আদালতকে উন্মুক্ত স্থানে বিচার কার্যক্রম চালাতে হবে। নৌপথ বিদ্যমান আইনে যাত্রীদের সুরক্ষা নেই। এ আইন বেশ দুর্বল। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নৌ দুর্ঘটনা হলে বিচারে তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না।
তারা বলেন, বিচারে শাস্তি বাড়ানো একমাত্র সমাধান নয়, সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, বিদ্যমান আইনে ক্ষতিপূরণ খুবই কম, আইন সংশোধন করে ক্ষতিপূরণ বাড়ানো হলে দুর্ঘটনা কমতে পারে। নৌ আইন সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, লঞ্চের ভেতর ইঞ্জিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে অবশ্যই মালিক দায়ী। নীতিমালা মেনে যানবাহন চললে দুর্ঘটনা কমে যাবে।
ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নৌ ও সড়কপথে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। এই কাঠামোগত যেন পরিবর্তন আসে, সে জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর নির্বাহী প্রধান আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাষ্ট্র ও প্রশাসন চাইলে ক্ষতিপূরণ দিতে আইন কোনো বাধা নয়। এটা সংশোধন করাই যায়। সড়কে বা নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২৮ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছি, যা এখনও শেষ হয়নি। আগামী দিনেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিটি লঞ্চে বিআইডব্লিউটিএর একজন প্রতিনিধি থাকতে হবে। লঞ্চের ইঞ্জিন, চালকের লাইসেন্স, সনদ, ফিটনেস ঠিক আছে কি না- এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আরও বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ড. আসিফ রায়হান, জীবন বীমা করপোরেশনের লিয়াকত আলী খান, আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত, ইশরাত জাহান সিদ্দিকী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জ ই মামুন।
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয় ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রয়াত স্বজনের মুখচ্ছবি। কেউ পরিষ্কার করেছেন সমাধি, কেউ ব্যস্ত ছিলেন মঠ ধোয়া-মোছায়। কোথাও নতুন রঙের প্রলেপ, আবার কোথাও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে সম ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছিল বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমাদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে পাহাড়, সমতল, জাতি-গোষ্ঠী কিংবা ধর্ম কোনো বিভাজনের কারণ হতে পারে না; আমরা সবাই বাংলাদেশের না ...
সব মন্তব্য
No Comments