হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজের বিবেচনা নেওয়া উচিত

প্রকাশ : 13 Apr 2026
হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজের বিবেচনা নেওয়া উচিত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে হামের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রাথমিক সনাক্তকরণ, আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।


বিএমইউর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপকা ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আজকের গোলটেবিল আলোচনা থেকে হাম প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাপ্ত বিষয়গুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। টিকার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিও জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেয়া যায় কিনা সেটা বিবেচনা নেওয়া উচিত। হাম প্রতিরোধে সার্ভেসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে করে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা যায়।


আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে হামের সংক্রমণ নতুনভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা পূর্বের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা সব ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাচ্ছে না।


এ প্রেক্ষাপটে কিশোরী মেয়েদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা উঠে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভবতী মায়েদের প্রতিরোধ ক্ষমতা মূল্যায়নে বৃহৎ পরিসরে গবেষণা চালানো জরুরি। গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে কিশোরীদের জন্য অতিরিক্ত টিকা প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।


আলোচনায় আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি রোগী ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার, ইন্টিগ্রেটেড কেস ম্যানেজমেন্ট অনুসরণ এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জ্বর হলেই তাৎক্ষণিকভাবে হাম হিসেবে ধরে নিয়ে রোগীকে আলাদা করার প্রয়োজন নেই। তবে জ্বরের চার দিন পর শরীরে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে তখন রোগীকে আইসোলেশনে রাখা উচিত।


তারা আরও বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব কেন পুনরায় বাড়ছে তা নির্ণয় করা এবং টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মহামারি একটি সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

সম্পর্কিত খবর

;