ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা,রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : 01 May 2026
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যা,রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার ৩

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে শিশু আইরিন আক্তার বিনা (৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কোতয়ালী থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পুলিশ জানায়, নিহত আইরিন গেরদা ইউনিয়নের বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন ২৫ এপ্রিল তার বাবা কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।


পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন এবং পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


ঘটনার পর কোতয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তদন্ত শুরু হয়। অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে শিশুটি বিষয়টি জানিয়ে দেবে আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।


পরে লাশ গোপন করতে সেটি একটি বাড়ির সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়। নাছিমা বেগম বিষয়টি জানার পর তার ছেলে শেখ আমিন ও অপর ছেলে রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;