ঠাকুরগাঁওয়ে ১০২ বস্তা চাল জব্দ, চলছে তদন্ত।

প্রকাশ : 04 Sep 2026
ঠাকুরগাঁওয়ে ১০২ বস্তা চাল জব্দ, চলছে তদন্ত।

মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নে সরকারি সিলযুক্ত ১০২ বস্তা চাল ও একটি ভটভটি গাড়ি জব্দের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাল সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কি না এবং কীভাবে তা বাইরে গেল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অনিশ্চয়তা।  


গত ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত ১১:০০ টার দিকে ডুমুরকালি বাজারে ডিলার আনোয়ারুল হকের গুদামের সামনে সরকারি লোগোযুক্ত চাল গাড়িতে তোলার সময় ভেলাই দক্ষিণপাড়ার একরামুলের চোখে পড়লে তা সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে একরামুল হক ও তার ভাই সালামের নেতৃত্বে স্থানীয়রা গুদাম থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে গাড়িটি আটক করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, চালগুলো নেকমরদ এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। চালের ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম শুরুতে ডিলার আনোয়ারুল হকের নাম বললেও পরে জানান, প্রকৃত মালিক আনোয়ারুলের ভাতিজা আকমুল হোসেন। নাম না জানার কারণে রাতে তিনি ভুল করে আনোয়ারুলের নাম বলেছিলেন।


রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিলার আনোয়ারুল হক দাবি করেন, চালের মালিক তিনি নন। সরকারি বরাদ্দকৃত ৫৬১ বস্তা ‘গুটি স্বর্ণা’ চাল তাঁর গুদামেই সুরক্ষিত রয়েছে। চাল বিক্রি বা পাচারের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ডিলার আনোয়ারুল আরো উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী কিছু ব্যক্তি এই বিষয়ে আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। তিনি তা না দেওয়ায় ওই সব নামধারী ফেসবুক সাংবাদিক তথ্য যাচাই না করেই ফেসবুকে "চুটকি মারা" পোস্ট দিয়ে তার সুনাম নষ্ট করছেন। তিনি এমন পোস্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন মর্মে মন্তব্য করেন। 

 তাঁর ভাতিজা আকমুল হোসেন জানান, অনেক কার্ডধারী চাল খেতে না চেয়ে বিক্রি করে দেন; তিনি তা কিনে জমা করেছিলেন। পরে চাচার মাধ্যমে তিনি শুধু তা বিক্রির ব্যবস্থা করেন। চালগুলো স্থানীয় একরামুল ও সালামের নেতৃত্বে আটকের বিষয়ে আকমুল আরো বলেন,তার চাচ্চুর পূর্বে ডিলার ছিলেন একরামুলের শ্যালক সিদ্দিক। সিদ্দিক এই ডিলার নেওয়ার ব্যাপারে অনেক টাকা খরচ করেও পায়নি তাদের অসততার জন্য। আমার চাচ্চু সততার পরিচয় দিয়ে ডিলার পেয়েছে এতে তাদের গায়ে লেগেছে। তাই ডিলার নেওয়ার পরপরই থেকেই তারা আমার চাচ্চুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করে চলছে। যার একটা হচ্ছে এই চালের ঘটনা।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ডিলার হিসেবে আনোয়ারুল দীর্ঘদিন সৎভাবে কাজ করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো নেতিবাচক রেকর্ড নেই।


চালের গুদাম পরিদর্শনের পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিতোষ কুমার সরকার অনানুষ্ঠানিকভাবে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এজাহার দেওয়া হয়েছে এবং চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বরাদ্দের ৫৬১ বস্তা 'গুটি স্বর্ণা' চাল ডিলারকে দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ভোক্তারা কবে নাগাদ চাল পাবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য তিনি দেননি।


জব্দকৃত চালের বর্ণনা অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এজাহারের ভিত্তিতে রাণীশংকৈল থানার এসআই সবুজের উদ্ধার অভিযানে জব্দ চালের ভিত্তিতে পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় ডিলার আনোয়ারুল হক ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।


রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, আটক চালের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে চালগুলো প্রকৃতপক্ষে কার। 

সম্পর্কিত খবর

;