জাতীয় সংসদ নির্বাচন

যুক্তফ্রন্টের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশ : 22 Jan 2026
যুক্তফ্রন্টের প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কোটিপতি, দুর্বৃত্ত ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব নয়, সংসদ হোক গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টায় ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

’৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ ও ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামে আত্মবলিদানকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে নির্বাচনী প্রচার কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রথমে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং পরে ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মুশতাক হোসেন, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল সিকদার। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিকারী যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। ইতিমধ্যেই পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠেছে। কমিশন জনগণের সামনে এ বিষয়ে পরিস্কার করতে পারেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কমিশন ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থীতার সুযোগ দিয়ে সংবিধান লংঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার ও কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে জনমনে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হামলা, অগ্নিসংযোগ অব্যাহত থাকায় তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এমনকি তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কীনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। গণভোটের প্রশ্নপত্র ৪টি বিষয়ে এমনভাবে করা হয়েছে যেখানে কারও যদি ২টিতে একমত, ২টিতে দ্বিমত থাকে তাহলে হ্যাঁ বা না তে উত্তর দিবে কীভাবে? ফলে গণভোট নামক অপ্রয়োজনীয় বিষয় এনে উটকো ঝামেলা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচার করে সরকার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন।

নেতৃবৃন্দ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, কালোটাকা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা কঠোর হস্তে দমন করে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সাথে বড় দলের সবল প্রার্থীরা আচরণবিধি লংঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ছোট দলের দুর্বল প্রার্থীদের সামান্য অনিয়মে জরিমানা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ কমিশনের এহেন পক্ষপাতমূলক আচরণ ও এক চোখা নীতি পরিহারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ’৯০ এবং ’২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন তথা সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে ঘোষণা করেন সংসদ যেন কোটিপতি, দুর্বৃত্ত ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব না হয়, সংসদ হোক গণমানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার।


সম্পর্কিত খবর

;