বন্ধ হরমুজ

যুদ্ধবিরতি শুরুর মধ্যেই ইরাক, কুয়েত ও কাতারে হামলা

প্রকাশ : 08 Apr 2026
যুদ্ধবিরতি শুরুর মধ্যেই ইরাক, কুয়েত ও কাতারে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–কে ঘিরে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাক, কুয়েত ও কাতার–এ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।


সূত্র অনুযায়ী, বাগদাদ–এ মার্কিন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


অন্যদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে কুয়েত জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় দেশটির তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।


এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানায়, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রুট বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


একই সময়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী সমঝোতা কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে।


অন্যদিকে, কাতার উপসাগরের নিকটবর্তী লাভান দ্বীপ–এ একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও এ হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।


এ ঘটনার পর ইসরায়েল ‘ইটারনাল ডার্কনেস’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে লেবানন–এর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বোমা হামলা করা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এটি লেবাননে ইসরায়েলের অন্যতম বড় হামলা।


এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও আগে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে নতুন করে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সম্পর্কিত খবর

;