চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ: ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী নেতা আটক

প্রকাশ : 01 May 2026
চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ: ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী নেতা আটক

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ে এক কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষেই ভাঙচুর চালান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্থানীয় এক নেতা। এ ঘটনায় জনি বিশ্বাস (২৯) নামের ওই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকেই জনি বিশ্বাসকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


আটক জনি বিশ্বাস ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাদের বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বর্তমানে শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।


বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই জনি বিশ্বাস তাঁর দপ্তরে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে পারে। পরে তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং অর্থ প্রদান না করলে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দেন।


মেহেদী হাসান আরও জানান, এ ধরনের দাবিতে তিনি বিস্মিত হয়ে জনি বিশ্বাসের পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।কথোপকথনের একপর্যায়ে জনি বিশ্বাস উত্তেজিত হয়ে টেবিলে আঘাত করলে কাচ ভেঙে যায় এবং তিনি উচ্চস্বরে হৈচৈ করতে থাকেন। পরে সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।


এ বিষয়ে বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তরে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটকের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে জনি বিশ্বাসকে অভিযোগ অস্বীকার করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি নিজেকে স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক দাবি করে বলেন, তিনি মূলত একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই কর্মকর্তার কক্ষে গিয়েছিলেন। 


ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জনি বিশ্বাসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;