বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: জাল সনদে চাকরি নেওয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যেই জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাল সনদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, কম্পিউটার সনদ এবং বিএড/বিপিএড সনদ। অভিযুক্ত শিক্ষকরা কেউ নিয়োগের তারিখ ‘ব্যাকডেট’ দেখিয়ে, কেউ এনটিআরসিএর ভুয়া ই-রিকুইজিশন ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠনের পর নিবন্ধন সনদ ছাড়া নিয়োগের সুযোগ না থাকলেও অধিকাংশকে ২০০৪ সাল বা তার আগের তারিখে নিয়োগ দেখানো হয়েছে।
বকশীগঞ্জের গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (EIIN: 109681) পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির তথ্য মিলেছে। সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোহাম্মদ নূর নবী আকন্দকে ২০০৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিয়োগ দেখিয়ে ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। অথচ ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্যানবেইসের শিক্ষক ডাটাবেইসে তার নাম নেই। একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও এবং নিবন্ধন সনদ ছাড়াই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন।’ নিবন্ধন সনদ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন আছে, তবে বিস্তারিত বলেননি।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) এ এফ মোহাম্মদ ইউসূফ আলীকেও ২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল নিয়োগ দেখিয়ে ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত করা হয়। তার কম্পিউটার সনদটিও জাল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্যানবেইসে তার নাম নেই। তিনি স্বীকার করেছেন, মাঝের ১৮ বছর নিয়মিত ক্লাস করেননি এবং কোনো বেতন-ভাতাও পাননি। নিবন্ধন পরীক্ষায় বসেননি বলেও জানান তিনি। সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) সুমন মিয়াকেও যথাক্রমে ২০০৪ ও ২০১৫ সালের ‘ব্যাকডেটে’ নিয়োগ দেখানো হয়। তাদের এমপিওভুক্তির সময় এনটিআরসিএর ভুয়া ই-রিকুইজিশন ব্যবহার করা হয়েছে। দুজনের সঙ্গেই বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) খলিলুর রহমানকে ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল নিয়োগ দেখিয়ে ২০২২ সালের ১ জুলাই এমপিওভুক্ত করা হয়। ব্যানবেইসে তার তথ্য আছে শুধু ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। তিনি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে স্বীকার করেছেন। নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনিও ‘প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন’ বলে মন্তব্য করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে আসতে হবে’। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।
পূর্ব বাঙ্গাল পাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে (EIIN: 133706) তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) মোহাম্মদ রাসেদুজ্জামান আলকাছ, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) জামাল উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) মোঃ নুর উদ্দিনকে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর নিয়োগ দেখিয়ে ২০২১ সালের ১ মে এমপিওভুক্ত করা হয়। ২০২১ সালের আগে ব্যানবেইসে তাদের নাম নেই। জাল নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া ই-রিকুইজিশনে তারা এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। রাসেদুজ্জামান দাবি করেন, তার নিবন্ধন সনদ আছে এবং তিনি ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিনা বেতনে ক্লাস নিয়েছেন। জামাল উদ্দিন কথা বলতে রাজি হননি এবং নুর উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি ২০২২ সালে যোগদান করায় আগের বিষয়ে কিছু জানেন না।
জাগির পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে (EIIN: 109682) প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) পদে ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর যোগদান করিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই এমপিওভুক্ত করেন। জাল স্নাতক ও জাল নিবন্ধন সনদে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে এ নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে (EIIN: 130845) সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) আঞ্জুয়ারা বেগম ও মোহাম্মদ আলী এনটিআরসিএর জাল সনদে নিয়োগ পেয়েছেন। সেকেরচর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (EIIN: 130845) সহকারী শিক্ষক (হিসাববিজ্ঞান) জাহিদ আলম ও সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) মোঃ মোক্তার হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, জাল সনদধারী শিক্ষক দিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শেখানো সম্ভব নয়। এদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিআইএর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে এমপিও বাতিলসহ ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আত্মসাৎ করা অর্থ আদায় করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার উপ-কমিটির উদ্যোগে আজ ১৫ জুন ২০২৬ইং তারিখে ‘ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স: এ নিউ ...
স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ...
লুতুব আলি, কলকাতা: পূর্ব বর্ধমান জেলা ব্রতচারী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ধমানের উপকণ্ঠে বড়শুলে। অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল বাংলা ব্রতচারী সমিতি ও ব্যবস্থাপনায় বড়শুল ব্রতচারী সংঘ।অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া সিনিয়র অ্যাডমিন অফিসার মো. আজহারুল ইসলামকে ‘বেআইনিভাবে’ চাকরিতে পুনর্বহালের প্রতিব ...
সব মন্তব্য
No Comments